দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কোভিডে আক্রান্তের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নমুনা পরীক্ষাও। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন লালারস পরীক্ষার জন্য লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষা করার পর রিপোর্ট হাতে পেতে অনেক দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীর পরিজনদের। সব থেকে সমস্যায় পড়ছেন মৃতের আত্মীয়রা।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিডের উপসর্গ রয়েছে এমন কোনও রোগী মারা গেলে সে ক্ষেত্রে মৃতদেহ মর্গে রেখে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হচ্ছে। যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলেই রোগীর পরিজনদের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরফলে মারা যাওয়ার তিন থেকে চারদিন পর দেহ হাতে পাচ্ছেন পরিজনেরা। এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে।
প্রায় প্রতিদিনই মৃতের পরিজনরা দেহ না পেয়ে হাসপাতালের সুপারের অফিসে গিয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। রায়নার বাসিন্দা শেখ সাইদুল, মনির মণ্ডলরা বলেন, স্ট্রোক হওয়ায় আমাদের এক আত্মীয়কে হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছিলাম। ভর্তির সময়েই রোগীর লালারস নেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর পরেও সেই লালারসের রিপোর্ট না আসায় তাঁর দেহ মর্গে ফেলে রাখা হয়েছে। কবে মৃতদেহ হাতে পাওয়া যাবে জানা নেই। প্রতিদিন হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন তাঁরা।
একই সমস্যায় পড়েছেন বর্ধমান শহরের বাদামতলা কচিপুকুরের স্বপন সূত্রধর। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় তাঁর আত্মীয়র দেহও এখনও হাতে পাননি। শহরের লস্করদিঘির সেখ ইসমাইলও জানান, পরিজনের দেহ না পেয়ে গত তিনদিন তাঁরা হাসপাতালে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত হাসপাতালের মর্গে চারজনের দেহ রয়েছে। যাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি।
বর্ধমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, অতিরিক্ত মাত্রায় টেস্ট হওয়ার কারণেই এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ধমান হাসপাতালের ডেপুটি সুপার কুণালকান্তি দে জানান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগ গড়ে ৭৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করতে পারে। প্রতিদিন বর্ধমান হাসপাতালেই ২৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়। তার পাশাপাশি বর্ধমানের বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রচুর পরিমাণ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে প্রতিদিন। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি নমুনা চলে আসাতেই রিপোর্ট দিতে সমস্যা হচ্ছে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সমস্যা সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলেই আমরা মনে করি।’’