
শেষ আপডেট: 18 December 2023 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালতের নির্দেশে আলিপুরদুয়ারের সমবায় দুর্নীতির তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি। বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানিতে সারদা তদন্তের (Sarada Case) প্রসঙ্গ টেনে আনলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এদিন ওই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডির উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “আদালত আশা করে. এই দুর্নীতি তদন্তে সিবিআই ও ইডি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে।”
আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) ‘মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতি’তে ৫০ কোটিরও বেশি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সিআইডি। রাজ্যের গোয়েন্দারা সমবায় দুর্নীতির ঘটনায় ৬জনকে গ্রেফতার করেন। তবে সিআইডির তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না মামলাকারীদের একাংশ। সিবিআই-ইডির হস্তক্ষেপ চেয়ে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারীরা। ওই মামলাতেই গত ২৫ অগস্ট সিআইডি তদন্ত বন্ধ করে অবিলম্বে সিবিআই এবং ইডিকে তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Gangopadhyay)।
এমনকী আদালতের নির্দেশের পরও রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের নথি হস্তান্তর না করায় রাজ্যকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছিলেন বিচারপতি। এদিন ওই মামলার শুনানিতেই সারদা মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিচারপতি।
আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে সারদার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিবিআই। প্রায় ১০ বছর হতে চললেও এখনও এই মামলা শেষ হয়নি। যা নিয়ে অতীতে একাধিকবার আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিচারপতি এদিন সেই সারদার প্রসঙ্গ টেনে আদতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দীর্ঘসূত্রিতা মনোভাব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
আলিপুরদুয়ারের ওই সমবায়ে প্রায় ২১ হাজার সদস্য রয়েছে। গরিবদের থেকে টাকা তুলে সেই টাকা কাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে তার কোনও হদিশ নেই। ঋণগ্রহীতাদের কোনও তালিকা পাওয়া যায়নি। যাঁরা ঋণের নামে টাকা নিয়েছেন, তাঁরা সেই টাকা ফেরত দেননি বলে মনে করছে আদালত। আগামী ১৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন: অভিযোগকারী পুলিশ, সাক্ষীও পুলিশ! ২ কুড়মি নেতা গ্রেফতারে জঙ্গলমহলে ফের অশান্তির আঁচ