
শেষ আপডেট: 28 April 2023 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলগত ভাবে বহুবার সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ লাগাতার বলেছেন, “উনি রায় দিয়ে ওনার ইচ্ছাপূরণ করছেন। ওনার উচিত বিচারপতির আসন ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া”।
শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাপারে রায় (Justice Abhijit Ganguly's case) ঘোষণার সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (Chief Justice DY Chandrachud ) বলেন,“বিচারপতিরা কঠিন দায়িত্ব পালন করেন। ঠিক যে কারণে আমরা মামলাটি অন্য এজলাসে সরানোর কথা বলছি, তা হল শুধুমাত্র ওই ট্রান্সক্রিপ্ট (টিভিতে দেওয়া বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকারের প্রতিলিপি)।” প্রধান বিচারপতি এর পরই বলেন, “যাতে প্রকাশ্যে কেউ বলতে না পারেন যে বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন।” (to avoid public perception of bias)
একাংশ বিচারপতির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তুলেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “বিজেপি ভোটের লড়াইয়ে পেরে উঠছে না। বিচার ব্যবস্থার এক-দু’জনকে কাজে লাগিয়ে তারা গত ২২ মাসে ২৩ টি সিবিআই করিয়েছে।”
এদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন,“যখনই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, তখনই বিচারপতিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। পেপারওয়েট, হাওয়াই চটি নিয়ে তেড়ে যাচ্ছে। পোস্টার লাগানো হচ্ছে। এতে বিচারব্যবস্থার মনোবলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ঘোষণা, রাত সওয়া ১২ টা পর্যন্ত এজলাসে থাকবে, ট্রান্সক্রিপ্ট পাঠাতে বলেছি
তুষার মেটা আরও বলেন, “আদালতে ঢুকে পড়ে বিচারপতির উদ্দেশে গালমন্দ করা হচ্ছে।” প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সলিসিটর জেনারেল বলেন, “আপনি কিছু একটা বলুন, যাতে বিচারব্যবস্থার মনোবল অটুট থাকে।”
এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, “আপনি ঠিকই বলছেন। কোনও বিচারপতিকে চোখ রাঙানো যাবে না। আমি যদি এরকম দেখি, তা হলে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।”
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্ট এদিন যে রায় ঘোষণা করেছে তা মাইলফলক বলে মনে করছেন প্রবীণ আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, কলকাতা হাইকোর্টে এ ঘটনা স্মরণকালে ঘটেনি। এমন হয়েছে যে বিচারপতি নিজে থেকে মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলা বিচারপতির এজলাস থেকে সরানোর দৃষ্টান্ত বিরল। তবে হ্যাঁ, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা যাতে অটুট থাকে সেই চেষ্টা সবাইকেই করতে হবে। প্রধান বিচারপতি যে নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থাৎ বিচারপতির দিকে চোখ রাঙানো যাবে না, তাও বাংলায় নিশ্চিত করতে হবে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সমস্ত নিয়োগ মামলা সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, বেনজির ঘটনা