
শেষ আপডেট: 7 June 2023 07:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়ূর কে না পছন্দ করেন? নীল আর সবুজের অপরূপ মিশেল, মাথায় ছোট্ট ঝুঁটি, আমাদের জাতীয় পাখিকে দেখতে এমনিতেই অসামান্য। তার উপর পেখম মেললে তো আর কথাই নেই! বর্ষায় ময়ূরীর মন জিততে ময়ূর যখন পেখম মেলে নাচ শুরু করে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকতে হয় সেদিকে। তবে মুশকিল একটাই। চট করে দেখা পাওয়া ভার এই পাখির। কিন্তু আজ আপনাদের এমন একটি গ্রামের কথা বলব, যেখানে চড়ুই কিংবা শালিখের মতোই উড়ে বেড়ায় ময়ূর (Phurun Gaon Kalimpong)। তাদের না আছে ভয়ডর, না আছে জড়তা। তাই চাইলেই দেখা তো পাওয়া যাবে বটেই, সঙ্গে ইচ্ছামতো ফ্রেমবন্দিও করে রাখা যাবে। আর এই জায়গার উপরি পাওনা হল আরামদায়ক তাপমাত্রা আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সব মিলিয়ে এই বর্ষায় একটা ছোট্ট ট্রিপ হয়ে যেতেই পারে।

এই গ্রামের নাম হল ফুরুন গাঁও (Phurun Gaon peacock village)। কালিম্পং শহরের অদূরেই এই গ্রামের বাসিন্দারা সকলেই ভুটিয়া। মূলত চাষবাসই তাঁদের জীবিকা। পাহাড়ের ঢালে ধাপচাষের মাধ্যমে ধান চাষ করেন তাঁরা। এছাড়া অর্গানিক পদ্ধতিতে এলাচ, গম, ভুট্টা, স্কোয়াশ সহ বিভিন্ন সবজি এবং মশলাও ফলানো হয়। নীল আকাশ, সবুজ গাছে ঘেরা পাহাড়, আর মেঘের মাঝেই এখানে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ায় ময়ূরের দল। খেত-খামারের মাঝে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করে তারা, কখনও উড়ে গিয়ে বসে এই পাহাড় থেকে সেই পাহাড়ে। এমনকী, পেখম মেলে নাচও দেখায়। কপালে থাকলে সেই দৃশ্যও চোখে পড়ে যেতে পারে। ময়ূর ছাড়াও এখানে অজস্র প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। যাদের মধ্যে রয়েছে পার্পল সানবার্ড, বার্ন সোয়ালো, বি হিটার ইত্যাদি। ফলে বার্ডওয়াচারদের জন্য এই জায়গা ছুটি কাটানোর একেবারে আদর্শ ঠিকানা।

এখন থেকেই কাছেপিঠে বেশ কিছু জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়। অদূরেই রয়েছে ইচ্ছেগাঁও, রেশিখোলা। এছাড়া ঘুরে আসতে পারেন রোলেপ, রংপো, রংলি থেকেও।

কীভাবে যাবেন?
এনজেপি থেকে গাড়িতে কালিম্পং যেতে হবে প্রথমে। তারপর সেখান থেকে মুংসুং হয়ে ফুরুন গাঁও। কালিম্পং থেকে এই পাহাড়ি গ্রামের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। ফলে যেতে বেশি সময় লাগবে না।
কোথায় থাকবেন
এই গ্রামে থাকার জন্য হোটেল রিসর্ট তেমন নেই। তবে হোমস্টে রয়েছে বেশ কিছু। আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া ভাল।
শিলিগুড়ি থেকে ২ ঘণ্টার দূরত্বে খরস্রোতা নদী, চা-বাগান আর জঙ্গলে বনফায়ার! নামমাত্র খরচে ঘুরে আসুন