দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাটমানি বিতর্ক চাপা দিতে আসরে নামল তৃণমূল ভবন।
কাটমানি বিক্ষোভ যখন ক্রমশ সংক্রমিত হচ্ছে, গ্রাম-মফস্বলে তৃণমূল নেতাদের বাড়ির বাইরে যখন বিক্ষোভের ঝড়, বাদ যাচ্ছে না শহর কলকাতাও, তখনই রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিবৃতি দিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
রবিবার ওই বিবৃতিতে পার্থবাবু লিখেছেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ ভুল ব্যাখ্যা করছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোরের সঙ্গে বলেছেন তৃণমূলের ৯৯.৯৯ শতাংশ কর্মী, জনপ্রতিনিধি সততা ও পরিশ্রমের সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করেন। একাংশের কর্মী যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, হয় তাঁরা অন্য দল থেকে এসেছেন, নয় তাঁদের পিছনে বিজেপি-র মদত রয়েছে।
ওই বিবৃতিতে পার্থবাবু লিখেছেন, “কিছু মিডিয়া চেয়ারপার্সনের বক্তব্যকে মিসকোট করছে।” কিন্তু ওই দিন নজরুল মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছিলেন? রাজ্যের সমস্ত পুরসভার কাউন্সিলরদের বৈঠকে দিদি স্পষ্ট বলেছিলেন, অনেকেই যে বিভিন্ন সরকারি কাজে ২৫ শতাংশ করে কমিশন নেয় সে খবর তাঁর কাছে আছে। এমনকী ‘সবার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় গরিব মানুষকে সুবিধা করে দেওয়ার নাম করেও অনেকে টাকা তুলেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা।
নেত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এবার এদের সবাইকে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে এও বলেন, কারও অধিকার নেই সরকারি কাজের বা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা নেওয়ার। মমতার কথায়, কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী—সব প্রকল্প থেকেই অনেকে কাটমানি খাচ্ছে। এমনকী মৃতদেহ সৎকারের সমব্যথী প্রকল্পের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে অনেকে।
যদিও এই বিবৃতিতে সেই প্রসঙ্গের কোনও উল্লেখই করেনি তৃণমূল। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনমানসে নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। বোঝাতে চেয়েছিলেন, যা দুর্নীতি করছে, নিচু তলার লোকেরাই। তিনি এ সবে আপোসহীন। কিন্তু তা যে এমন ছোঁয়াচে হবে এবং দলের জন্য ব্যুমেরাং হবে তা বোধহয় আন্দাজ করতে পারেননি কেউ। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয়েছে পার্থবাবুকে।
তৃণমূলের এ হেন বিবৃতি নিয়ে রাজ্য বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন রেকর্ড কাটমানির কথা বলেছিলেন। আর এখন মিডিয়ার ঘাড়ে দোষ চাপালে হবে! আসলে দিদিমণি বুঝতে পারছেন এ বার ওঁর বাড়ি আর ভাইপোর বাড়ির সামনে ভোর চারটে থেকে মানুষের লাইন পড়বে কাটমানি ফেরত নেওয়ার জন্য। তাই আতঙ্কে এ সব বিবৃতি দিচ্ছেন।”
সিপিএমের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ী বলেন, “সবাই দেখেছেন এবং শুনেছেন মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন। এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন পার্থবাবু। আসলে নিচু তলার নেতারা কালীঘাটে ফোন করে বলছে, ভাগ তো তোমাদেরও দিয়েছি। জনতাকে কি ওই রাস্তা দেখিয়ে দেব? তাই ভয় পেয়ে পার্থবাবুর মতো গোবেচারা লোককে মাঠে নামিয়েছেন নেত্রী।”