মেলার মাঠে দুই ছাত্রকে কোপাল দুষ্কৃতীরা, ভগবানগোলায় এক জনের মৃত্যু
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাশের গ্রামে পিরের মেলা দেখতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের কোপে মৃত্যু হল এক স্কুলছাত্রের, গুরুতর আহত হয়েছে তার এক বন্ধুও। রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার ঘটনা।
লালগোলার বাসিন্দা ইমরান শেখ ও নাইস শেখ। তারা দু’জনেই ভগবানগোলার বালি
শেষ আপডেট: 27 January 2020 07:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাশের গ্রামে পিরের মেলা দেখতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের কোপে মৃত্যু হল এক স্কুলছাত্রের, গুরুতর আহত হয়েছে তার এক বন্ধুও। রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার ঘটনা।
লালগোলার বাসিন্দা ইমরান শেখ ও নাইস শেখ। তারা দু’জনেই ভগবানগোলার বালিটুঙ্গি হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। ওই দুই বন্ধু রবিবার ভগবানগোলায় গিয়েছিল দাদাসাহেবের পিরের মেলা দেখতে। রাত ন’টা নাগাদ তারা ছিল মেলার মাঠের লাগোয়া একটি মাঠে। আচমকাই কয়েক জন দুষ্কৃতী সেই মাঠে হাজির হয়ে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র চালাতে শুরু করে। তাতে মারাত্মক ভাবে আহত হয় ইমরান ও নাইস। তাদের সারা শরীর রক্তে ভিজে যায়।
এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে ভয়ে ও আতঙ্কে চিৎকার করতে শুরু করে দেন মেলায় আসা লোকজন। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইমরান শেখ ও নাইস শেখকে। তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ইমরান শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। ইমরানের পেট, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ রয়েছে।

বছর সতেরোর ইমরানের বাড়ি লালগোলার রাধাকান্তপুরে। তার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। হাসপাতালে চলে আসেন ইমরানের বাড়ির লোকজন। তাঁরা এই ঘটনার কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান। তাঁরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। মূল মেলা থেকে মাত্র একশো মিটার দূরে অত লোকের মাঝে কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল সে কথা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। ইমরান খুব মেধাবী ছাত্র ছিল বলে তার বাড়ির লোক জানিয়েছেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইমরানের বন্ধু নাইস শেখকে প্রথমে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। তার আঘাতও অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নাইস শেখের বাড়ি লালগোলা থানা এলাকার চাঁদেরপাড়ায়।
এই ঘটনা কী ভাবে ঘটল তা বুঝে উঠতে পারছেন বা কোনও বাড়ির লোকজনই। নাইস সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই ঘটনা সম্বন্ধে জানা যেতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তাদের আশা, খুব শীঘ্রই এই ঘটনার কিনারা করা যাবে, অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।