দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরভোটের এখনও দিন ঘোষণা হয়নি। এর মধ্যেই টিকিট পাওয়ার দাবিতে তৃণমূলকর্মীদের বিক্ষোভ চালু হয়ে গেল। রবিবার সকালে এমনই ঘটনা ঘটল শিলিগুড়িতে। তৃণমূল কর্মীদের একাংশ শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সত্যজিৎ অধিকারীকে ফের টিকিট দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় মন্ত্রী গৌতম দেবের বাড়ির দোরগোড়ায়। গোটা ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মন্ত্রী।
কিন্তু কেন এমন বিক্ষোভ? যাঁর হয়ে তৃণমূলকর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন সেই কাউন্সিলর কি এবার টিকিট পাচ্ছেন না? শিলিগুড়িতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে তেমনটাই। অনেকের মতে, সত্যজিৎ অধিকারীর বিরুদ্ধে গুচ্ছগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। এবার তাঁকে টিকিট নাও দেওয়া হতে পারে চাউর হয়ে গিয়েছে শহরজুড়ে। অনেকের বক্তব্য, সে কারণেই দলীয় নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়াতে এই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।
যদিও কাউন্সিলর সত্যজিৎবাবু সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এসবের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। এই বিক্ষোভে তাঁর কোনও হাত নেই। তাঁর কথায়, স্থানীয় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “এ ভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট কে পাবেন তা ঠিক করে দলের নেতৃত্ব। তার একটা প্রক্রিয়া আছে। এই ধরনের অরাজকতা তৃণমূল কংগ্রেস বরদাস্ত করবে না।” বিক্ষোভকারীরা গিয়েছিলেন জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারের বাড়ির সামনেও। যদিও রঞ্জনবাবু বলেছেন, “কেউ বিক্ষোভ দেখাতে আসেনি। দলের কর্মীরা আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল।”
তৃণমূলের জেতা কাউন্সিলররা যে এবার টিকিট নাও পেতে পারেন সেই ইঙ্গিত দলের বৈঠকে দিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, টিকিট দেবে দল। কাকে টিকিট দেবে সেটা দলই ঠিক করবে। অনেকের বক্তব্য, তৃণমূল কাউন্সিলরদের সম্পর্কে জনমানসে ধারণা ঠিক কেমন তা জানতে প্রশান্ত কিশোরের টিম সমীক্ষা চালিয়েছে। তার ভিত্তিতেই এবার টিকিট দেওয়া না দেওয়া নির্ভর করবে। কিন্তু পুর নির্বাচনের হাওয়া গরম হওয়ার আগেই টিকিটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে দিল তৃণমূল।