দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাস-ট্রেন বন্ধ থাকার ফলে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন ফেরিওয়ালারা। দিন আনা দিন খাওয়া এই সব পরিবার চরম সমস্যায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে যখন সারা দেশে লকডাউন চলছে তখন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দীপক, বাবুসোনা, সঞ্জীব, স্বর্ণালী, অর্ণবরা। এঁরা উত্তর ২৪ পরগনার টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ ও তেতুঁলিয়া শহিদ নুরুল ইসলাম কলেজের ছাত্রছাত্রী।
বাস ও ট্রেন বন্ধ হওয়ার ফলে বহু হকার রুজি-রোজগার হারিয়ে ঘরবন্দি হয়েছেন। দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ওই ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের টিফিনের খরচা বাঁচিয়ে জমানো টাকা থেকে কেউ পাঁচশো টাকা আবার কেউ এক হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। ট্রেন ও বাসে জিনিস ফেরি করেন ও দিনমজুর মিলিয়ে শ’দুয়েক মানুষকে টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ দিয়েছেন চাল, ডাল, হলুদ গুঁড়ো, দুধ ও প্যাকেট বন্দি খাবার। তেঁতুলিয়া শহিদ নুরুল ইসলাম কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্যাকেটে করে পটল, পেঁয়াজ, আলু, চাল ও সয়াবিন দিয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “যেভাবে টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ ও তেঁতুলিয়া শহিদ নুরুল ইসলাম কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে এসেছেন তা এই সংকটের মুহূর্তে সমাজে একটা নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিপদের দিনে ওঁরা আজ ত্রাণ নিয়ে পথে নেমেছেন। আরও বেশি করে সমাজ তৈরির কারিগর ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে এলে আমরা এই সংকট কাটিয়ে নতুন সমাজ গড়ার শপথ নিতে পারব। তাঁরা সমাজে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দিচ্ছেন। যেভাবে হকার ও দিনমজুর পরিবারের পাশে এসে তাঁরা দাঁড়িয়েছেন তা দেখে শুধু বাহবা দিলে হবে না, এর থেকে শিক্ষা নিতে হবে আমাদের সবাইকে। এই ভাবে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের সব স্তরের মানুষকে।”
এদিন তিনি বার বার হাত ধোওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পথে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে বলেও জানিয়েছেন। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাজার-দোকান করার পরামর্শ দিয়েছেন।