দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বলে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ধরা পড়ে গেল এক প্রতারক। ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মনতোষ মণ্ডল। তিনি ওই প্রতারককে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ওই প্রতারকের নাম চন্দন মোহন্ত। তার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশকারী এলাকায়। হরিরামপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুসকারী এলাকার বাসিন্দা চন্দন মোহন্ত নিজেকে হাইকোর্টের বিচারপতি বলে পরিচয় দিয়ে হরিরামপুরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ) সৌভিক আলমকে চাপ দিচ্ছিল। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দু’জন লোককে অস্থায়ী কর্মীর চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য বলছিল বিএমওএইচকে। আগেও ওই ব্যক্তি পরিচয় ভাঁড়িয়ে দেখা করেছিল ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে।
প্রথমে কোনও রকম সন্দেহ না হলেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলায় সন্দেহ হয় সৌভিক আলমের। তিনি গঙ্গারামপুর মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মনোতোষ মণ্ডলকে বিষয়টি জানান। মনতোষ মণ্ডল এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন চন্দন মোহন্তকে। তখন সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করে। তখন এক আইনজীবীকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। তারপরে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় ওই ব্যক্তি। সে যে বিচারক নয় তা প্রকাশ হয়ে যায়। তখন খবর দেওয়া হয় হরিরামপুর থানার পুলিশকে।
পুলিশ ওই ব্যক্তিকে জেরা করে জেনেছে, আগেও সে প্রতারণা করেছে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে টাকা আদায় করত। সম্প্রতি সে এই নতুন ফন্দি এঁটেছিল। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেনি। ধরা পড়ে যায় হাতেনাতে। আজ সোমবার ওই প্রতারককে বুনিয়াদপুর আদালতে তোলা হয়েছে।
এ মাসের গোড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়ার টোপ দিয়ে টাকা আদায় করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে ধরা পড়ে যায় এক যুবক। সে নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ি ভাড়া করে থাকছিল বারুইপুরে। আদতে সে ছিল মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা ছিল।
এর আগে বিভিন্ন সময় পুলিশ সেজে প্রতারণা করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছে ভেকধারী। এক সময় তো রাজ্যে একের পর এক ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়ছিল। তবে এরা প্রত্যেকেই প্রতারণা করে সরাসরি টাকা আদায় করত। অনেক সময় চাকরির টোপ দিয়েও প্রতারণা করতে দেখা যায়। তবে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে একেবারে সরকারি আধিকারিকের কাছে হাজির হয়ে অন্যদের চাকরি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার ঘটনা বিরল বলেই মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।