দ্য ওয়াল: ব্যুরো মৎস্য দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক সীতারাম মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। পাঁচ লক্ষেরও বেশি আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল সীতারামবাবুর বিরুদ্ধে। বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্ধমান শহরের আলমগঞ্জ এলাকার প্রান্তিক বাজার থেকে বুধবার বিকেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বর্ধমানেরই খাজা আনোয়ার বেড় এলাকায় সীতারামবাবুর বাড়ি।
বৃহস্পতিবার তাঁকে বর্ধমানে আদালতে পেশ করা হয়। সীতারামবাবুকে হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানায় পুলিশ। অন্যদিকে সীতারামবাবুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁর আইনজীবী স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়। জামিনের জোরাল বিরোধিতা করেন সরকারী আইনজীবী নারদ কুমার ভুঁইয়া। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সীতারামবাবুকে বিচার বিভাগীয় হেয়াফজতের নির্দেশ দেন বিচারক রতন কুমার গুপ্ত। ১৯ মার্চ ফের ধৃতকে আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সীতারাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের সইয়ের নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার।
বীরভূমের রামপুরহাটের থানার অন্তর্গত নারায়ণপুরের বাসিন্দা রিঙ্কু দাস অভিযোগ এনেছিলেন সীতারাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেন ওই যুবক। রিঙ্কুর কথায়, অনেকদিন ধরেই নানা জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময়েই সীতারামবাবুর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। রিঙ্কু বলেন, নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠনের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেন সীতারামবাবু। রিঙ্কুকে মৎস্য দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি বলেন যে চাকরির জন্য ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। রিঙ্কুর কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ৫ লক্ষ টাকাও নাকি নিয়েছিলেন সীতারামবাবু। রিঙ্কুর অভিযোগ, সীতারামবাবুর বাড়িতেই এসব লেনদেন হয়েছিল। এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র নেওয়ার পাশাপাশি রিঙ্কুকে দিয়ে একটি ফর্মেও সই করিয়ে নেন সীতারামবাবু।
রিঙ্কুর অভিযোগ, দু’মাসের মধ্যে চাকরি হবে বলে আশ্বাস দেন সীতারামবাবু। এরপর রিঙ্কুর বাড়িতে মৎস্য দফতরের একটি নিয়োগপত্র পৌঁছয়। খোঁজখবর নিয়ে রিঙ্কু জানতে পারেন সেটি জাল। এরপর সীতারামবাবুর বাড়িতে যান রিঙ্কু। সেখানে সীতারামবাবু তাঁকে আশ্বাস দেন যে পুনরায় রিঙ্কুকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু তারপর বহুদিন কেটে গেলেও চাকরি আর জোটেনি। রিঙ্কুর অভিযোগ, আশেপাশে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর মতো আরও অনেকের থেকেই চাকরি দেওয়ার নাম করে সীতারামবাবু টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রিঙ্কু আরও জানিয়েছেন, যে তাঁকে সীতারামবাবু একটি চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি বাউন্স করেছে। সূত্রের খবর, এর আগেও সীতারাম বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চেক বাউন্সের মামলা রয়েছে।