দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল হুগলির খানাকুলে। বুথ কর্মী সুদর্শন প্রামাণিক খুনের প্রতিবাদে রবিবার খানাকুল থানা এলাকায় বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি।
খানাকুলের নবতিপুর এলাকায় এ দিন সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ছিল বিজেপির। কাছাকাছি জায়গায় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ছিল তৃণমূলেরও। সেই সময়েই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বচসা বাঁধে। তা থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে যায়।
বিজেপির বক্তব্য, আরামবাগ মহকুমায় তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাই ভয় পেয়ে এখন খুনোখুনিতে নেমেছে তৃণমূল।
পাল্টা তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, “এই খুনের ঘটনা একেবারেই বিজেপির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেস খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে। শিগগিরই সত্য উদ্ঘাটন হবে।”
দলীয় কর্মী খুনের ঘটনার খবর পেয়েই এদিন খানাকুলে যান বিজেপির দুই সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁরাই বনধের কথা ঘোষণা করেন। বিজেপির এক নেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে বাংলায় জঙ্গলরাজ চলছে। এখানে স্বাধীনতা দিবসের পতাকা তুলতে গেলেও খুন হতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা পুলিশকে বলেছি, ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার না করলে খানাকুলে আগুন জ্বলবে।” তৃণমূলের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই বিজেপি নেতা বলেন, “তৃনমূল যদি ভাবে পুলিশ দিয়ে বিজেপিকে ঘরে ঢুকিয়ে দেবে তাহলে ভুল ভাবছে। ওই দিন আর নেই। তৃণমূলকে উচিত জবাব পাওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে।”
খুনের ঘটনায় থমথমে নবতিপুর। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। এদিন দুপুরে নিহত কর্মীর দেহ নিয়ে আরামবাগে অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। কিছুক্ষণ পর সেই অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ।