শেষ আপডেট: 28 January 2020 09:42
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যপাল তথা আচার্যকে। তাঁকে ছাড়াই হয়েছিল সমাবর্তন। কলকাতার সমাবর্তন মঞ্চে তিনি না উঠতে পারলেও তাঁর সই করা শংসাপত্র দেওয়া হল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যদের।
পিছনের গ্রিন রুমে অভিজিৎবাবুকে পাশে নিয়েই শংসাপত্রে সই করেন আচার্য। সোনালিদেবীও ছিলেন ওই ঘরে। রাজ্যপাল টুইট করে বলেন, “উপাচার্য আমার থেকে অনুমতি নিয়েই এই অনুষ্ঠান করেছেন। কারণ এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সম্মান জড়িয়ে রয়েছে।” অভিজিৎবাবুকে সম্মান জানাতে পেরে তিনি গর্বিত বলে জানান রাজ্যপাল।
পিছনের গ্রিন রুমে সই পর্ব হয়ে যাওয়ার পর মঞ্চে আসেন উপাচার্য। ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাত্রদের স্লোগানের জোরে কার্যত চাপা পড়ে যায় উপাচার্যের গলা। এরপর বেগতিক দেখে সোনালি দেবী ঘোষণা করেন, তিনিই অভিজিৎ বিনায়কবাবুর হাতে তুলে দেবেন ডি লিট সম্মান। ছাত্ররা তখন স্টেজের ঠিক নীচে দাঁড়িয়েই বলতে থাকেন, রাজ্যপাল যেন মঞ্চে না আসেন। স্লোগান ওঠে, “গো ব্যাক রাজ্য পাল। ওয়েলকাম অভিজিৎ।” খানিকটা বিরক্ত হয়েই সোনালিদেবী ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, “বললাম তো উনি (পড়ুন রাজ্যপাল) মঞ্চে আসবেন না। আমি দেব ডি লিট।” এরপর করতালিতে ফেটে পড়ে ছাত্ররা।
গতকাল সোনালিদেবী ব্যক্তিগত ভাবে রাজভবনে গিয়ে আচার্যকে সমাবর্তনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এমনিতে আচার্য বৈঠকে ডাকলে উপাচার্যরা প্রায় পাত্তাই দেন না। সেখানে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সোনালিদেবীর রাজভবনে যাওয়াকে তৃণমূল ভালভাবে নেয়নি বলেই মত অনেকের।
এদিন দেখা গেল সমাবর্তন অনুষ্ঠান হল। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ডি লিট নিয়ে বক্তৃতাও দিলেন। মঞ্চে উঠলেন না রাজ্যপাল। কিন্তু ঘুরিয়ে তাঁর হাত দিয়েই নোবেলজয়ীকে সম্মান দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।