মমতার কেন্দ্রে বাড়িতেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন বলেও দেননি ৯ শতাংশ ভোটার
রফিকুল জামাদার
৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর (Bhawanipur) বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বামেদের তরফে প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী শ্রীজীব বিশ
শেষ আপডেট: 27 September 2021 17:08
রফিকুল জামাদার
৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর (Bhawanipur) বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। বামেদের তরফে প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস।
হাইভোল্টেজ সেই কেন্দ্রেই ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে ও বিশেষভাবে সক্ষম যেসমস্ত ভোটাররা পোস্টাল ভোটে ভোট দেবেন বলে আবেদন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ৯ শতাংশ ভোটার শেষ পর্যন্ত ভোট দেননি। পোস্টাল ব্যালট হলেই এই ভোট আসলে বাড়ি বসে ভোট দেওয়ায় ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের যাবতীয় ব্যবস্থা করার পরও তারা ভোট দেননি।
কোভ্যাক্সিনকে অনুমোদন দিল না হু, একগুচ্ছ জবাব তলব ভারত বায়োটেকের কাছে
উল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৭১৩ জন। বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটার আছেন ৩২৮ জন।
এঁদের মধ্যে বাড়িতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন বলে আবেদন করেছিলেন মোট ৬৫৭ জন ভোটার। এই ৬৫৭ জনের মধ্যে ৮০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ৬৩৯ জন এবং ১৮ জন বিশেষ ভাবে সক্ষম ভোটার।
বিশেষভাবে সক্ষম ১৮ জন ভোটারের মধ্যে সবাই আবেদন অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন। তবে ৮০ ঊর্ধ্বের ভোটারদের মধ্যে ৫৭ জন ভোট দেননি। অর্থাৎ পোস্টাল ব্যালটে ভোটের মোট আবেদনকারীদের মধ্যে ৬০০ ভোট পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভবানীপুর এলাকায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করা ভোটারদের ভোট গ্রহণ করেছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে। তবে ১২ জন ভোটার এই দু-দিনে ভোট দিতে পারেননি বলে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত একদিন অর্থাৎ শুক্রবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট সংগ্রহ করেছেন কমিশনের অফিসাররা। তিনদিনে কমিশনের মোট ৪৮টি টিম ওই কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোট সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় হাইভোল্টেজ ওই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়বে তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গিয়েছে সব দলের অন্দরেই। এ নিয়ে কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবালপুরের এক সভায় বলেছিলেন ঝড় হোক, জল হোক, বৃষ্টি হোক আপনারা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটটা দিতে যাবেন, দরকার হলে নৌকো করে ভোট দিতে যাবেন। কারণ আপনাদের একটা ভোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ, আমি যদি না জিততে পারি মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারব না, অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পর অনেকেই বলাবলি শুরু করেছিলেন, ভবানীপুরের উপনির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়বে, সেই উদ্বেগ থেকে একথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন।
তার কারণও আছে, এমনিতেই উপনির্বাচনে মানুষ ঢেলে ভোট দিতে যাচ্ছে তা কোনওদিনই দেখা যায় না। কারণ উপনির্বাচনে সরকার বদল করার কোনও বিষয় থাকে না। যদিও ভবানীপুরের ক্ষেত্রে উপনির্বাচনের একটু আলাদা গুরুত্ব থাকছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকা না থাকা নির্ভর করছে এই কেন্দ্রের নির্বাচনের ওপর।
অন্যদিকে বিজেপির কাছেও ভবানীপুরের ভোট একটা চ্যালেঞ্জ কারণ তারা একুশের বিধানসভা ভোটের আগে যা বলেছিল ফলাফলে তার সিকিভাগও দেখা যায়নি। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীকে হারাতে তারাও ঝাঁপিয়ে পড়েছে ওই কেন্দ্রে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে রাজ্য সভাপতি, বিরোধী দলনেতা সহ সবাই প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের হয়ে লাগাতার প্রচার চালিয়েছেন।
উপনির্বাচনে ভোট কত পড়বে সেই চিন্তা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে ধরা পড়েছে তা নয়। বিজেপির স্মৃতি ইরানি থেকে শুরু করে প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল, সকলের কথাতেই তা পরিষ্কার।
ফলত, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন বলেও না দেওয়ার এই ট্রেন্ড ৩০ তারিখ ইভিএমেও কি ইন্ধন জোগাবে, তা ভাবাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলকে, ভাবাচ্ছে বিভিন্ন মহলকেও।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'