দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশ ফেরত দম্পতির সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে 'উধাও' হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলির বৈদ্যবাটিতে। শ্রীরামপুর থানার অধীনে থাকা শেওড়াফুলি ফাঁড়ির পুলিশ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে পারেনি।
ঘটনাটা কী?
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে বৃহস্পতিবার হুগলির বৈদ্যবাটি পুর এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফেরেন এক দম্পতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু'দিন আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, সংক্রমণের মাত্রা বেশি এমন পাঁচটি রাজ্য থেকে ফিরলেই কেবল সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সেই মতো বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বেশ কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার এই দম্পতিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের লালমোহন বসু প্রাথমিক স্কুলে রাখতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন বিদায়ী কাউন্সিলর মানওয়ার হোসেনও।
এরপর ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। ওই স্কুলকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার ক্ষেত্রে স্থানীয়রা আপত্তি জানান। কাউন্সিলরকে ঘিরে কিছুটা চিৎকার-চেঁচামেচিও হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, ওই সময় সিভিক ভলান্টিয়াররা চলে যান। কাউন্সিলরকে স্থানীয় মহিলারা বুঝিয়ে বলেন, এই স্কুলের বাউন্ডারি নেই। তা ছাড়া স্কুলের গায়ে লাগানো টিউবওয়েল ব্যবহার করেন আশপাশের বাড়ির মানুষজন। এখানে কোয়ারেন্টাইন করলে বাড়তি আশঙ্কা তৈরি হবে।
উত্তেজনা প্রশমনের পর ইন্দোর থেকে ফেরা তরুণ-তরুণীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফাঁড়িতে। স্থানীয়দের বক্তব্য, তারপর তাঁরা কাউন্সিলরকে পরামর্শ দেন। এলাকায় ফান্ডামেন্টাল এডুকেশন নামের একটি স্কুল রয়েছে। যেটি অনেকটা বড় এলাকা জুড়ে। একবার গেট দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হলে বাইরের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক থাকে না। স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রায় বলেন, "যাঁরা মধ্যপ্রদেশ থেকে ফিরেছেন তাঁরা আমাদের সহনাগরিক। আমরা চাই না তাঁরা বিড়ম্বনায় পড়ুন। কিন্তু প্রশাসনকেও বুঝতে হবে কোন স্কুলের কী অবস্থান। কোনগুলিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা যায় বা যায় না।"
কিন্তু গতকাল রাতের পর ইন্দোর থেকে ফেরা ওই দু'জনের কোনও খোঁজ নেই। তাঁরা গেলেন কোথায়? এ ব্যাপারে জানার জন্য শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫২ মিনিট নাগাদ শেওড়াফুলি ফাঁড়ির বড় বাবু শুভাশিস দাসকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "ওঁদের তো হাসপাতালে চেকআপে যাওয়ার কথা। আমি ঠিক জানি না। জেনে ঘণ্টাখানেক পর বলতে পারব।" তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতেই তো এলাকার লোকের আপত্তিতে ওই দু'জন স্কুলে ঢুকতে পারেননি। তাঁরা কোথায়? এর জবাবেও বড় বাবু বলেন, "খোঁজ নিয়ে বলছি।" খোঁজ পাওয়া গেল কিনা জানতে ঠিক এক ঘণ্টা পর দ্য ওয়াল-এর তরফে বড় বাবুর মোবাইলে ফের ফোন করা হয়। ফোন তোলেননি তিনি। ফাঁড়ির ল্যান্ড নম্বরে যোগাযোগ করলে বলা হয়, অফিসাররা কেউ নেই। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
ওই দু'জন কোথায় গিয়েছেন তা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।