দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেও মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ ছাড়েননি শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শোভনের ইস্তফা গ্রহণ করে নবান্নের কর্তাদের দিদি বলেছিলেন, ওকে জানিয়ে দিন মেয়র পদও যেন ছেড়ে দেয়।
বুধবার নবি দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারি অফিস কাছারি সব ছুটি ছিল। পুরসভাতেও ঘোষিত ছুটি ছিল এ দিন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুর কমিশনার খলিল আহমেদ তাঁর দফতর খোলা রেখেছিলেন। যাতে শোভন চট্টোপাধ্যায় পুরসভায় এসে তাঁর কাছে ইস্তফা পত্র পেশ করে যেতে পারেন। কিন্তু ঘটনা হল, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ইস্তফা পত্র পেশ করলেন না শোভন। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রেখে দিলেন।
শোভনের এই আচরণ দেখে ইতিমধ্যেই তৃণমূলে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে কি দলকে আরও বিড়ম্বনায় ফেলতে চাইছেন একদা মমতার অত্যন্ত স্নেহভাজন কানন! উনি কি চাইছেন মেয়র পদ থেকে দল তাঁকে বরখাস্ত করুক। তবে তা করতে গেলেও ঝক্কি কম নয়। পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের দিয়েই অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
শোভনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, ল্যাজে খেলানোর কোনও ইচ্ছা বা অভিপ্রায় শোভনবাবুর নেই। বুধবার ছুটি ছিল তাই পুরসভায় তিনি যাননি। বৃহস্পতিবার আর পাঁচটা দিনের মতো পুরসভা খুললেই তিনি গিয়ে ইস্তফা পত্র পেশ করবেন। রাতে অবশ্য শোভনবাবু জানান, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ইস্তফা দিতে বলেছেন, আমি ঠিক সময়ে তা পৌঁছে দেব। এত তাড়াহুড়ো কিসের। একটু ধৈর্য ধরুন না।'
তবে যতক্ষণ না তা হচ্ছে, তৃণমূলের অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বিশেষ করে মেয়র পদপ্রার্থী হয়ে ওঠার ব্যাপারে যাঁদের বহুদিনের সুপ্ত বাসনা রয়েছে।
এ দিকে শোভন ইস্তফা না দিলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের বৈঠকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকে মনে করছেন, ওই বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়র পদ প্রার্থী ঘোষণা করে দেবেন দিদি।