অন্যের সঙ্গে চলে গেছে বৌ! রাগে অন্ধ হয়ে পড়শিদের পুড়িয়ে মারার ছক, মৃত তিন, গণপ্রহারে নিহত অভিযুক্তও
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য পুরুষের সঙ্গে। কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি স্বামী। ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। এমনকী প্রতিবেশীদেরও অনুরোধ করে, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। ফিরিয়ে আনতে পারলে ৫০০ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করে বসে। ক
শেষ আপডেট: 19 July 2019 05:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য পুরুষের সঙ্গে। কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি স্বামী। ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। এমনকী প্রতিবেশীদেরও অনুরোধ করে, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। ফিরিয়ে আনতে পারলে ৫০০ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করে বসে। কিন্তু প্রতিবেশীরা তো সাহায্য করেনইনি, উল্টে দোষারোপ করেন স্বামীকেই। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে, হতাশায় দিশাহারা হয়ে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নিল স্বামী! কার্যত পুড়িয়ে মারল তিন জনকে! পরে গণপিটুনির জেরে মারা গেল নিজেও!
ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানানো এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ শহরতলির মহেশতলা থানার আক্রা এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার মূল চক্রী ও অভিযুক্ত, মৃত রবিউল ইসলাম আদতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিল। বছর দুয়েক আগে বউকে নিয়ে এসে আক্রার বোগা-নোয়াপাড়ার এক বাড়িতে ঘর ভাড়া নেয় সে। একটা বড় বাড়ির অনেকগুলো খুপরি ঘরে বেশ কয়েকটি পরিবার থাকত। সেখানেই এক প্রতিবেশীর শালার সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল রবিউলের বৌয়ের।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মাসখানেক আগে প্রেমিকের সঙ্গে চলে যায় রবিউলের স্ত্রী। রবিউল ফেরাতে চাইলেও ফেরেনি। শেষমেশ প্রতিবেশীদের কাছে অনুরোধ করে রবিউল। ৫০০ টাকা দেবে বলেও জানায়। কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যায় ঢুকতে চাননি কেউই, পাত্তাই দেননি রবিউলের অনুরোধে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই রাগেই রীতিমতো অন্ধ হয়ে যায় রবিউল। তার প্রতিবেশীদের অর্থাৎ গোটা বাড়ির প্রতিটা বাসিন্দাকে খুনের পরিকল্পনা করে বসে সে। ঠিক করে, গোটা বাড়ি পুড়িয়ে দেবে!
তার এই পরিকল্পনা জানতে পেরে রীতিমতো শিউরে উঠছে পুলিশও! পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে রবিউলদের বাড়ির উল্টো দিকের একটি বিয়েবাড়িতে ওই বাড়ির সকলের নিমন্ত্রণ ছিল।তাই রাত আড়াইটে পর্যন্ত রবিউলের সমস্ত প্রতিবেশী ওই বিয়েবাড়িতেই ছিলেন। গোটা বাড়িই ছিল প্রায় ফাঁকা। আর সেই সুযোগেই গোটা বাড়িকে জতুগৃহ বানিয়ে রাখে রবিউল।
তদন্তকারীরা জানান, রবিউল প্রায় ৫০ মিটার লোহার তার বিছিয়ে দেয় সব ক'টি ঘরের সামনে। কেরোসিনও ছড়িয়ে দেয়। এই অবস্থায় নিজের ঘরে ফিরে একটি প্লাগের সঙ্গে বিদ্যুৎ-সংযোগ করে দেয় সারা বাড়িতে বিছিয়ে রাখা লোহার তারে। তার পরে এক প্রতিবেশীর ঘরের সামনে ধরিয়ে দেয় আগুন! নিজেই চিৎকার করে আগুন আগুন করে।
চিৎকার শুনে, আগুন দেখে বিয়েবাড়ি থেকে ছুটে আসেন পড়শিরা। যাঁরা ঘরে ছিলেন, তাঁরাও ছিটকে বেরিয়ে আসেন, আর তখনই তাঁদের পা পড়ে বিদ্যুৎবাহী তারে। নিজের ঘরের সামনে পৌঁছনোর পরে লোহার তারে পা পড়তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান রহমত (২৮)। এই রহমতের শালার সঙ্গেই চলে গিয়েছে রবিউলের স্ত্রী। একই ভাবে লোহার তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুলতান আহমেদ (৪৫) এবং জাকির হোসেন (২৩)-এর। গুরুতর আহত অবস্থায় চার মহিলা এবং তিনটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
জাকিরের একটি প্রতিবন্ধী সন্তানও রয়েছে। ইয়াসিন গাজি, হোসেন মহম্মদ-সহ অন্যান্য পড়শিরা জানান, মাস দুয়েক ধরে মাঝে মধ্যেই বৌকে খুঁজে এনে দিতে বলত রবিউল, পুরো পাড়াকে জানে মারার হুমকিও দিত সে। কিন্তু সত্যিই- সত্যিই যে এমন কাণ্ড ঘটাবে রবিউল, তা তাঁরা বিন্দু মাত্র আঁচ করতে পারেননি।
রাত তিনটের সময়ে তখন চরম তুলকালাম চলছে গোটা পাড়ায়। আগুনের হাত গিয়ে বাঁচতে এলাকাবাসী যখন সরু গলি দিয়ে বড় রাস্তার দিকে ছোটার চেষ্টা করছিলেন তখনই অনেকে ছিটকে পড়েন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। অন্য পড়শিরা বাঁচাতে এলে বিপদে পড়ছিলেন তাঁরাও। এলাকাবাসী জানিয়েছে, এই সময় পাড়ারই এক যুবকের তৎপরতায় মেন সুইছ খুঁজে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করা হয় গোটা বাড়িতে।
পুলিশ জানায়, আগুন ধরিয়ে পালানোর সময় রবিউলকে দেখে ফেলেন ওই বস্তিরই বাসিন্দা সাবিরা বিবি। পরের দিন সকালে টালিগঞ্জ স্টেশনে রবিউলকে দেখতে পান কয়েক জন পড়শি। তাঁরাই পাকড়াও করেন রবিউলকে। স্টেশন চত্বরেই শুরু হয় গণপ্রহার। তার পরে তাকে ট্রেনে চাপিয়েই মারতে-মারতে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রা স্টেশনে। সেখানে ফের শুরু হয় গণধোলাই। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জখম অবস্থায় তাকে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে, পরে মারা যায় সে।