
শেষ আপডেট: 21 July 2023 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবসের (SahidDibas 2023) সভায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata banerjee on 21st July) এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য গঠিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নিয়ে ভাষণে অনেকটা সময় ব্যয় করেন। দু’জনেই বুঝিয়ে দেন, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে এই জোটকে সামনে রেখে তৃণমূল লড়াই করবে।
গত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর বৈঠকে নয়া জোটের কথা ঘোষণা করা হয়। তারপর তৃণমূলের (TMC Rally on 21st July) শুক্রবারের কর্মসূচিতেই প্রথম জোটের বিষয়টি তুলে ধরা হল কোনও জনসভায়। এই সভা নিয়ে শুক্রবার দলীয় মুখপত্রের লেখাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন। ধর্মতলার সভার সভার ভাষণেও ‘জয় বাংলা’র পাশাপাশি ‘জয় ইন্ডিয়া’ স্লোগান শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
ওই জোটে বাংলায় তাঁর অন্যতম দুই প্রতিপক্ষ কংগ্রেস ও সিপিএমও আছে। স্বভাবতই শুক্রবারের সভা নিয়ে কৌতূহল ছিল শহিদ দিবসের সভায় মমতা সিপিএম এবং কংগ্রেস সম্পর্কে কী বলেন। অতীতের সভাগুলিতে তিনি বিজেপির পাশাপাশি এই দুই দলকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। বিজেপির সঙ্গে সিপিএম ও কংগ্রেস রামধনু জোট করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক সভায়।
সিপিএম নেতৃত্ব অবশ্য আগেই এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর বৈঠকেই সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জাতীয় স্বার্থের কথা স্বীকার করেই জানিয়ে দেন রাজ্যের বাস্তবতা মেনে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। যেমন বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেরলে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের বোঝাপড়া হবে না। লড়াই হবে। পরে সিপিএমের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত কেরল ও বাংলার কমরেডদের উদ্দেশে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
বেঙ্গালুরুর বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব্যাপারে মুখ না খুললেও তৃণমূলের (Abhishek Banerjee on 21st July) অবস্থান জানাই ছিল। সেটাই শুক্রবারের সভায় খোলসা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। সিপিএমের ৩৪ বছরের রাজত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করেই মমতা ও তাঁর দল রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ফলে জাতীয় রাজনীতির স্বার্থেও বাংলায় তিনি ওই দলের সঙ্গে আপোসের রাস্তায় হাঁটবেন না।
ভাষণে মমতা পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিপিএম জমানার সন্ত্রাস, দলবাজির অভিযোগ তোলেন। বলেন, তৃণমূল গরিবে গরিবে ভেদাভেদ করে না, যা সিপিএম জমানায় করা হত। বাম জমানায় হওয়া ২০০৩ এবং ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে খুনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নিশানা করেন তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারকেও। কিন্তু অতীতের মতো কংগ্রেসকে আক্রমণ শানাননি তৃণমূল নেত্রী।