
শেষ আপডেট: 4 June 2022 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা লরি চালান। অন্যের লরি। বছরের বেশিরভাগ সময়টাই কেটে যায় পথে পথে। হাতে স্টিয়ারিং ধরে। তার থেকেই যেটুকু আয় তাতেই কোনওমতে সচল থাকে সংসারের চাকাটা। তাই খেয়েপড়ে ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তাঁক। তাতে কী! মাধ্যমিকের ফল বেরোতেই ছেলে যে চমকে দিয়েছে সবাইকে। ভাতারের (Bhatar) বেলেন্ডা গ্রামের বাসিন্দা লরিচালকের ছেলে রাহুল দাস একাদশ স্থানটি দখল করেছে এবারের মাধ্যমিকে (Madhyamik 2022)।
ভাতার মাধব পাবলিক হাইস্কুলের ছাত্র রাহুল। মাধ্যমিকের তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৩। তার এই সাফল্যে আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে লরিচালকের ঘরে। পলেস্তারা খসা মাটির দেওয়ালে যেন ঠিকরে যাচ্ছে আলো। রাহুলের এমন সাফল্যের খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন তাঁর শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো রাহুল। চার কামরার মাটির বাড়ির একটা কুঠরিতে মাদুর পেতে বসে চলে পড়াশোনা। পর্যাপ্ত আলোও ঢোকে না সে ঘরে। তবে সাফল্য এখন রোদ হয়ে এসেছে সেই ঘরে। গ্রামের মানুষজন জানালেন, ছেলের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে বাবা-মা খুব কষ্ট করেই ভাতার বাজারে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে পাঠিয়ে ছিলেন। সারাদিনই পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো রাহুল। রাহুলের দাদু পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, “রাতে যখনই ঘুম ভাঙে তখনই দেখি নাতি পড়াশোনা করছে। দিন-রাত এক করে খেটেই এমন সাফল্য।”
রাহুলের মা করুণাদেবী জানান, তাঁদের অভাবের সংসার। অনেক কষ্ট। তবুও পড়াশোনা নিয়ে কখনও বলতে হয় না ছেলেকে। ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে ছেলের। সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কী না তা অবশ্য জানা নেই।
অঙ্কে ১০০, ভূগোলে ১০০, জীবনবিজ্ঞানে ৯৮, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৭ বাংলায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৩ নম্বর পেয়েছে রাহুল। পড়াশোনা ছাড়াও গল্পের বই পড়তে আর গাছ লাগাতে ভালোবাসে রাহুল।
শরীরে ক্যানসার, ঘরে দারিদ্র, জোড়া বাধা সরিয়েই মাধ্যমিকে সফল বর্ধমানের সামিনা