
শেষ আপডেট: 10 September 2023 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রশাসনের দরজার দরজায় ঘুরেও শুধু মাত্র প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই মেলেনি। বাবার পেনশন না পেয়ে এবার বাধ্য হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন এক অসহায় প্রৌঢ়া (Katwa Old Pension)। স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন তিনি। শুধু তাই নয় এই একই চিঠি তিনি জেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠিয়েছেন।
বর্ধমান শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহদরজা এলাকার বাসিন্দা সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাবা শিবানন্দ ঘোষাল কাটোয়া ব্লকের খাজুরডিহি গ্রাম পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি পদ ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি অবসর নেন। ২০১০ শিবানন্দবাবু মারা যান। তিনি মারা যাওয়ায় সুনীতির মা পেনশন পেতেন।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই পেনশন আবেদন নিয়ে প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়িয়েছেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছাড়া তাঁর ঝুলিতে একটা কানাকড়িও আসেনি। সুনীতি জানান, আর তিনি এইভাবে জীবন কাটাতে পারছেন না। তিনি স্বেচ্ছামৃত্যু চান। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও জেলাপ্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সুনীতিদেবীর স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি জেলা যুবমোর্চার সাধারণ সম্পাদক সুধীররঞ্জন সাউ বলেন, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, সেখানে একজন মহিলা ১০ বছর ধরে তাঁর ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করছেন। প্রশাসনিক কর্তারা তাঁকে ঘুরিয়ে মারছে। প্রশাসনের ঘুম কবে আর ভাঙবে।'
প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য এব্যাপারে বলেন, 'রাজ্যের বিধায়কদের মাইনে একলাফে চারগুণ হয়ে গেল অথচ একজন মহিলা দশ বছর ধরে পেনশনের জন্য সরকারি দফতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।'
জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, 'আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি । আপনাদের কাছেই বিষয়টি শুনলাম। অবশ্যই জেলা পরিষদ ওই মহিলার পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।' এই বিষয়ে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
আরও পড়ুন: রানিনগরে কংগ্রেসে ভাঙন! দলের সদস্যরা গ্রেফতার হতেই তৃণমূলে পঞ্চায়েত সমিতির দুজন!