
শেষ আপডেট: 7 October 2023 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: শরীরে ২০ টি সেলাই নিয়ে আবার পরিবেশে ফিরে যাবে পাইথন। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে পাইথনটি। এটা জানার পরেই আশায় বুক বাঁধছেন চিকিৎসক ও পরিবেশ কর্মীরা।
মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে তোলপাড় সিকিম। জলের তোড় গিলে নিয়েছে পথঘাট-সেতু-বাড়িঘর। মারা গেছেন বহু মানুষ। এখনও খোঁজ মিলছে না অনেকের। ক্ষতি হয়েছে অনেক প্রচুর বন্যপ্রাণেরও। শুক্রবার তিস্তার মণ্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় একটি ক্ষতবিক্ষত বার্মিজ পাইথনকে উদ্ধার করেন পরিবেশ কর্মীরা। পশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয় পাইথনটির।
ক্ষতবিক্ষত বার্মিজ পাইথনকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ওয়াশ করে শুশ্রূষা শুরু হয়। কুড়িটি সেলাই করা হয়েছে তার দেহে। প্রাণীটিকে বাঁচানো যাবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল চিকিৎসকদের। কিন্তু সাপটি সাড়া দেওয়ায় অনেকটাই চিন্তামুক্ত তাঁরা।
শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মণ্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েতের তাঁতি পাড়া এলাকার এক বাসিন্দা ফোন করে পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে জানান, তিস্তা নদীর চরে একটি পাইথন চাপা পড়ে আছে। তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। খবর পেয়ে বিশ্বজিৎবাবু ছুটে যান। তিস্তার বাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার জল কাদা পেরিয়ে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শুরু হয় শুশ্রূষা।
বিশ্বজিৎবাবু বলেন, “খবর পেয়ে আমি আর দেরি করিনি। গিয়ে দেখি প্রায় নয় ফুট লম্বা বার্মিজ পাইথনটির গায়ে তার পেঁচিয়ে থাকায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সাপটিকে উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে আসি। ডাক্তারবাবু প্রথমে ভালভাবে ওয়াশ করেন। এরপর তার শরীরের ক্ষতস্থানে একের পর এক সেলাই দিতে থাকেন। তারপর প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। কিছুক্ষণ পর সাপটি চিকিৎসায় সাড়া দেয়। এরপর আমি সাপটিকে বন দফতরের হাতে তুলে দেই।”
জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার রাজেশ্বর সিং বলেন, “সাপটিকে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কুড়িটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বন্যায় প্রচুর বন্যপ্রাণী ভেসে গেছে। কোথাও যদি কোনও বন্যপ্রাণীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তবে আমাদের খবর দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।” গরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের এডিএফও জন্মেঞ্জয় পাল জানিয়েছেন, বার্মিজ পাইথনটিকে গরুমারা প্রকৃতি বিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।”