দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: পারিবারিক বিবাদের জেরে গলা কেটে নৃশংস ভাবে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে বেপাত্তা অভিযুক্ত স্বামী। সোমবার রাতে এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ মানিকচক থানার উগরিটোলা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই মহিলাকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে আনলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মানিকচক থানার পুলিশ দেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত মহিলার নাম চন্দনা রায় (৪০)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম ঝন্টু রায়। পরিবারসূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গণ্ডগোল প্রায়ই লেগে থাকত। সোমবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে স্বামী ঝন্টু রায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মায়ের আর্তনাদ শুনে মেয়ে জয়শ্রী ছুটে গেলে বাবা চম্পট দেয়। তড়িঘড়ি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় চন্দনাদেবীকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে যায় মানিকচক থানার পুলিশ।
ওই দম্পতির কন্যা জয়শ্রী রায় জানান, তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া চলত। কিন্তু বাবা যে এমন কাণ্ড করবে তা বুঝতেও পারেননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘বাবা কোনও কাজকর্ম করত না। নেশা করত। মায়ের সামান্য রোজগারে সংসার চলত। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাবা সবসময় মার উপর অত্যাচার চালাত। সোমবার রাতেও মার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া বাধায় বাবা। হঠাৎ মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাই। ছুটে গিয়ে দেখি উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে মা। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। আমাকে দেখেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় বাবা। আশেপাশের লোকজনকে ডেকে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’’
এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। মানিকচক থানার পুলিশ মঙ্গলবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।