নতুন বাংলো আর আগের মতো সম্পূর্ণ কাঠের হবে না। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে কাঠ ও কংক্রিটের মিশেলে তৈরি হবে অবিকল আগের চেহারার মতোই স্থাপত্য।

হলং বাংলো
শেষ আপডেট: 6 December 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলদাপাড়া (Jalda Para) জাতীয় উদ্যানের ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো (holong forest bungalow) ফের পুরনো রূপে ফিরতে চলেছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া সেই হেরিটেজ বাংলো পুনর্নির্মাণে রাজ্য সরকারের (West Bengal) তরফে মিলল সবুজ সঙ্কেত। এর জন্য বরাদ্দ ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
তবে নতুন বাংলো আর আগের মতো সম্পূর্ণ কাঠের হবে না। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে কাঠ ও কংক্রিটের মিশেলে তৈরি হবে অবিকল আগের চেহারার মতোই স্থাপত্য। থাকবে আগের মতো ৮টি ঘর, ছাউনি থাকবে টিনের পুরোনো ঢঙে, সিঁড়ির নকশাতেও রাখা হবে একই ঐতিহ্য।
তবে সব মিলিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে— এই নতুন বাংলো কি আগের মতো বাণিজ্যিক পর্যটনের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে? বনদফতর সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয়।
জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও পারভিন কাসোয়ান বলেন, “ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেওয়া সাবেক বনবাংলোর রূপ নতুন নির্মাণে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে।”
পর্যটন ব্যবসায়ীরা অবশ্য পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “বাংলোটি পুড়ে যাওয়ার পর থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই হেরিটেজ বাংলো।”
অতএব, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে ফের ফিরতে চলেছে ডুয়ার্সের সেই ঐতিহাসিক ঠিকানা— হলং বনবাংলো।
২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং বনবাংলো। অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটকদের মধ্যে সংশয় ছিল বাংলোর পূনর্নির্মাণ হবে তো? পূনর্নির্মাণের দাবিতে সেই সময় দেশেবিদেশ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন পর্যটকরা।
শুধু তাই নয়, দাবি উঠেছিল হলং বাংলো যেন অবিকল আগের নকশা মেনেই তৈরি করা হয়। বাংলো তৈরি করার ক্ষেত্রে বাধা হয়েছিল ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী আইন। এই আইনে বলা আছে, সংরক্ষিত জঙ্গলে কোনও বাণিজ্যিক নির্মাণ নিষিদ্ধ।
তবে রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জে ভি জানান, এই বাংলো পূনর্নির্মাণে কোন বাধা নেই। কারণ এটা কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। এখান থেকে যে টাকা আয় হয়, তা রাজ্য সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে না। সবটাই খরচ হয় জাতীয় উদ্যানের উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায়। তাছাড়া, এই বাংলো তৈরি হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। তখনও বন্যপ্রাণী আইন পাশ হয়নি।