
শেষ আপডেট: 28 August 2023 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: ডোমজুরের (Domjur) রাস্তা থেকে উদ্ধার হল এক যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। রবিবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই যুবতীকে খুন (Murder Case) করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পরিবারের লোকজনের দাবি, তাঁদের মেয়েকে খুন করার নেপথ্যে জামাই ও তাঁর পরিবার জড়িত।
অনুশ্রীর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের আগে থেকে চন্দনের সঙ্গে মেয়ের আলাপ ছিল। প্রেমের সম্পর্ক ছিল দুজনের। তারপর দুই বাড়ির সম্মতিতে চন্দন অনুশ্রীর বিয়ে হয়েছিল।
আত্মীয়রা আরও জানান, মেয়ে নাচ ভালবাসত। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও সে কথা জানতেন। তবে বিয়ের পর থেকে অনুষ্ঠানে মেয়ের নাচার ব্যাপারে বাধা দিতেন তাঁরা। এই নিয়ে মেয়ের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকী এই কারণে অনুশ্রীকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ।
শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত ছ'মাস আগে ওই যুবতী তাঁর বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও করেছিলেন। আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি নেন। তাছাড়া পাড়ার বাচ্চাদের নাচ শেখাতে শুরু করেন।
রবিবার বিকেলে বন্ধুর বাড়ি যাবেন বলে অনুশ্রী বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে সাইকেলও ছিল। রাতে আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরবেন বলে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ওই যুবতী। কিন্তু পরে আর বাড়ি ফেরেননি। পরে ঝালুয়ারবেড় এলাকার নির্জন এলাকা থেকে অনুশ্রীর রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপের ক্ষত ছিল। কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল তাঁর চোখ। দেহের পাশে পড়েছিল টাকার ব্যাগ। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি আধার কার্ড পায়। সেখান থেকেই মৃতার পরিচয় জানতে পারে।
পরে ডোমজুড় থানার পুলিশ ওই পরিবারকে ফোন করে থানায় ডাকে। এর পরেই অনুশ্রীর পরিবার জামাই চন্দনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ক্ষোভ উগরে দেয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ডোমজুড় থানার পুলিশ ওই যুবতীর স্বামী চন্দন মাঝিকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল।
আরও পড়ুন: প্রেসার কুকার দিয়ে বেদম মার লিভ-ইন সঙ্গীকে, মরেই গেলেন তরুণী! পুলিশের জালে প্রেমিক