
শেষ আপডেট: 8 July 2022 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থী যশবন্ত সিনহার (Yashwant Sinha) নাম ঘোষণার আগে তিনি ছিলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী যশবন্ত ২০১৮ পর্যন্ত বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া নিয়ে সিপিএমের অন্দরে জোর তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের অনেকেই যশবন্তের রাজনীতির অতীত টেনে আপত্তি তুলেছেন। সিপিএম (CPM) নেতৃত্ব এই বিরুদ্ধ স্বরকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। আবার তাদের বক্তব্য কেন ভুল নয় সেই ব্যাখ্যাও দিচ্ছে পার্টি। শুক্রবার জ্যোতি বসু (Jyoti Basu) স্মারক বক্তৃতায় প্রয়াত নেতার নানা সময়ের বক্তব্য, অবস্থানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে চলতি বিতর্কে জল ঢালতে চাইলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (Sitaram yechuri)।
আজ জ্যোতি বসুর ১০৯তম জন্মদিন। সিপিএম রাজ্য কমিটি কলকাতায় প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে স্মৃতি বক্তৃতার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারামকেই। দলীয় সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যশবন্তকে সমর্থনের কারণ আরও একবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সামনে তুলে ধরতেই সীতারামকে বেছে নেওয়া হয়। কারণ, প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় তিনিই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যশবন্তের আগে শরদ পাওয়ার, ফারুক আবদুল্লা, গোপালকৃষ্ণ গান্ধীদের রাজি করাতে সীতারামও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁরা পিছিয়ে যাওয়ায় যশবন্তের নাম আসে।
স্মারক বক্তৃতায় যশবন্তের নাম নেননি সীতারাম। তবে রাষ্ট্রপতি ভোটের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, কে প্রার্থী হলেন সেটা প্রধান বিচার্য নয়। আসল কথা হল, কেন তাঁকে প্রার্থী করা হল। পার্টি কংগ্রেসের গৃহীত লাইনের উল্লেখ করে সীতারাম বলেন, আমাদের কাজ হল সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরোধীদের পাশে থাকা। কারও অতীত তুলে এনে আজকের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না। অর্থাৎ সীতারাম বোঝাতে চেয়েছেন, যশবন্ত কী ছিলেন সেটা বিচার না করে আজ কী বলছেন, কী করছেন সেই দিকটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এই প্রসঙ্গে সীতারাম বাংলার উদাহরণ টানতে গিয়ে ফিরে যান ১৯৬৭, ১৯৬৯ সালে। ওই দুই বছর দুটি যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়েছিল বাংলায়। বিধানসভায় আসন সংখ্যার নিরীক্ষে সিপিএম বৃহত্তম পার্টি হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন বাংলা কংগ্রেসের অজয় মুখোপাধ্যায়। উপ মুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। সীতারাম এরপর যোগ করেন, "সেই সব দিনে সরকার গড়া আমাদের পার্টির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল না। ছিল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা।"
এরপর দিল্লির দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন, ব্যাংক, কয়লা খনি জাতীয়করণের শর্তে বামপন্থীরা ইন্দিরা গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আবার জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরার বিরুদ্ধে জগজীবন রামের পাশে থেকেছে পার্টি। একইভাবে ১৯৭৭ সালে কেন্দ্রে মোরারজি দেশাইয়ের সরকারকে দল সমর্থন করেছে।
সীতারাম বলেন, কে ছিলেন বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং, যাঁকে আমরা ১৯৮৯-এর লোকসভা ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছি। তাঁর সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করেছি। তিনি তো রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সীতারাম বোঝাতে চান, ১৯৮৯-এ লড়াইটা ছিল রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে। প্রাক্তন কংগ্রেসি বিশ্বনাথপ্রতাপকে তাই সমর্থন না দেওয়াটা ভুল হত।
জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে সীতারাম বলেন, উনি দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন কীভাবে সময়ের দাবি, প্রয়োজন, বাস্তবতাকে মাথায় রেখে সামনে চলার পথ তৈরি করে নিতে হয়।
এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যের প্রসঙ্গও ভাষণে উল্লেখ করেন সীতারাম। বলেন, ভোটের আগে জাতীয় স্তরে কোনও বিরোধী ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই। তার প্রয়োজনীয়তার পক্ষেও সওয়াল করেননি সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক। এই ক্ষেত্রেও অতীতের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, কেন্দ্রে একাধিকবার জোট সরকার হয়েছে। কিন্তু কখনই ভোটের আগে সার্বিক বিরোধী ঐক্য হয়নি। জোট সরকার তৈরি হয়েছে ভোট পরবর্তী বাস্তবতাকে সামনে রেখে। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করতে রাজ্যভিত্তিক বোঝাপড়া হতে পারে। সর্বভারতীয় পর্যায়ে হওয়া কঠিন।
বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের এক-দুটি প্রশ্নের জবাব দেন সীতারাম। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যশবন্তকে সমর্থনের প্রশ্নে বাংলা সিপিএমে অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। জবাবে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক বলেন, পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত সব রাজ্য কমিটিকেই মানতে হবে। পার্টি কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যে কোনও বোঝাপড়া, ঐক্যকে পার্টি সমর্থন জোগাবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক’দিন আগে বলেছিলেন, আগে জানতে তাঁরা দ্রৌপুদী মুর্মুকে সমর্থনের কথা বিবেচনা করতেন। এই প্রসঙ্গে সীতারামের বক্তব্য, উনিই তো বিরোধী দলগুলির বৈঠক ডেকেছিলেন। আমরা সকলে ওঁর ডাকে গিয়েছি। এখন উনি যদি একথা বলেন তাহলে বিরোধী দলগুলির কাছে ওঁকেই জবাবদিহি করতে হবে।
জগনের মা দল ছাড়লেন, মেয়ের কঠিন সময়ে তেলেঙ্গানামুখী বিজয়াম্মা