দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলিটব্যুরোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েই গেছিল। বাকি ছিল কেন্দ্রীয় কমিটির আনুষ্ঠানিক সিলমোহরের। ৩০ ও ৩১ দু'দিনের সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে রাজ্য কমিটিগুলি যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আগামী বছর বাংলা সহ কেরল, তামিলনাড়ু এবং অসমে বিধানসভা ভোট রয়েছে। সেই ভোটে দল কী রণকৌশল নেবে তা চূড়ান্ত করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তাতে রাজ্যওয়াড়ি কী হবে তা বলে দিয়েছে একে গোপালন ভবন।
বলা হয়েছে, বাংলায় তৃণমূল ও বিজেপি কে পরাস্ত করতে কংগ্রেস সহ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করবে দল। কেরলে এলডিএফ নির্বাচনী লড়াই করবে। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটে শামিল হবে কাস্তে হাতুড়ি তারা। অসমের ক্ষেত্রেও বিজেপিকে পরাস্ত করার কৌশল হিসেবে প্রয়োজনে কংগ্রেসের হাত ধরায় অনুমোদন দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরিরা।
প্রসঙ্গত, ষোলর ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির ধমক খেতে হয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের। তাই এবার আগে থেকেই বঙ্গ সিপিএম চেয়েছিল দিল্লির ছাড়পত্র আদায় করে নিতে। যাতে আর দোলাচলে না থাকতে হয়।
গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যে যৌথ কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও জোটের বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। সিপিএমেরও অনেকে তাকিয়ে ছিলেন সিসি মিটিংয়ের দিকে। অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়পত্র দিল জোটে বা নির্বাচনী বোঝাপড়ায়।
সূত্রের খবর প্রকাশ কারাট শিবিরও এবার বিশেষ বাধা দেয়নি কংগ্রেসের হাত ধরার প্রস্তাবে। এ ব্যাপারে সিপিএমের মধ্যে দুটি যুক্তি রয়েছে। অনেকের মতে, কারাটরাও বুঝতে পারছেন অন্ধ কংগ্রেস বিরোধিতায় আসলে বিজেপির ফায়দা ফায়দা হচ্ছে। তাই সেই কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তাঁরা। আবার অনেকে বলছেন, আগে থেকে আসন সমঝোতায় বাধা দিলে বাংলার জোটপন্থীদের রোষানলে পড়তে হবে। তাই ওসবে না গিয়ে ছেড়ে দিয়েছে কারাট শিবির। ভোটের বিশেষ কিছু হওয়ার আশা নেই বুঝেই এই নরম অবস্থান তাঁদের। যাতে পরে বলা যায়, জোট করে জাতও গেল আবার ভোটও গেল।
তবে সিপিএমের এক প্রবীণ নেতার কথায়, "এই জোট করতে গিয়ে আসলে যেটা হল সেটা হচ্ছে, আগে আমরা তৃণমূলকে বলতাম বাংলায় কুস্তি আর দিল্লিতে দোস্তি। এখন তৃণমূল যদি বলে কেরলে কুস্তি, বাংলায় দোস্তি তাহলে জবাব দেওয়ার কিছু থাকবে না।"