
শেষ আপডেট: 18 September 2022 02:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরেরদিনই প্রতিবাদ জানিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল খোয়াইয়ের সোনাঝুরি হাট। এই গ্রেফতারি পর্বে মাঝেমধ্যেই হাট বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে শনিবার সোনাঝুরির হাটে যেই কাণ্ডটি ঘটল, তা দেখার পর ক্ষুব্ধ অনেকেই। শান্তিনিকেতনের (Shantiniketan) এই সোনাঝুরি হাটে (Sonajhuri Hat) দোকান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জোর বচসা বাঁধল দুই গোষ্ঠীর মধ্যে।
হাটের পুরনো দোকানদারদের অভিযোগ, রূপপুরের তৃণমূল (TMC) নেতা তথা প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি কাজি নুরুল হুদা তাঁর কয়েকজন কাছের লোককে জোর করে হাটে বসানোর চেষ্টা করেছেন। তা নিয়েই বাধা দেওয়া হয়। কারণ, যাদেরকে নতুন করে হাটে দোকান বসাতে দেওয়া হচ্ছিল, তাঁরা কেউই সোনাঝুরি হাট ব্যবসায়ী পরিচালনা সমিতির সদস্য নয়। এরপরই বাধা দেওয়া হয় তাঁদেরকে। যা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। যদিও বাবার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতির ছেলে।
হাট পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ব্যবসায়ীর দাবি, হাটে বসতে গেলে কিছু নিয়ম মানতে হয়। কিন্তু বাইরে থেকে এসে জোর করে হাটে বসে পড়ছে অনেকে। আর এতে মদত দিচ্ছেন রূপপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি কাজি নুরুল হুদা। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা অশান্তি শুরু করে হাটের মধ্যেই। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। শেষ অবধি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ।
বিষয়টি ঘিরে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পালা। সেই ব্যবসায়ী সমিতির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগে তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতির ছেলে কাজি রাহুল আমিন বলেছেন, 'আমরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলাম হাট পরিচালন সমিতির কাছে। যাদেরকে নতুন করে বসানো হচ্ছিল তাঁরা আদিবাসী। এই হাট তাঁদের জন্যও।'
এই বিষয়টি কানে যেতেই তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বোলপুর পুরসভা। তৃণমূল নেত্রী ও বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেছেন, 'আমরা বিষয়টি দেখছি। ঝামেলা এড়াতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোনাঝুরি হাটে বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসেন। তাঁরা এসে যদি দেখে এখানে হাটের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা ঝামেলা করছেন, তাহলে শান্তিনিকেতনেরই নাম খারাপ হবে।'