বাংলায় ঔদ্ধত্য চলে না, অহঙ্কারের ফল পেল বিজেপি: মমতা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলা পৌনে বারোটা। উপনির্বাচনের গণনা তখনও শেষ হয়নি। সবে কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের জয়ের খবর এসেছে। সেই সঙ্গে খড়্গপুর ও করিমপুর দুই আসনেই স্বস্তিজনক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলার শাসক দল। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন ভোট সাফল্য প্রতিক্রিয়
শেষ আপডেট: 28 November 2019 06:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলা পৌনে বারোটা। উপনির্বাচনের গণনা তখনও শেষ হয়নি। সবে কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের জয়ের খবর এসেছে। সেই সঙ্গে খড়্গপুর ও করিমপুর দুই আসনেই স্বস্তিজনক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলার শাসক দল। পরিস্থিতি যখন এমনই তখন ভোট সাফল্য প্রতিক্রিয়া জানাতেও আর দেরি করলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “ঔদ্ধত্য আর অহঙ্কারের ফল বিজেপি। এই জয় মানুষের জয়।”
সকাল থেকেই বাড়িতে বসে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে টেলিফোনে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছিলেন দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কারণ, শুভেন্দু উত্তর দিনাজপুর তথা কালিয়াগঞ্জ এবং পশ্চিম মেদিনীপুর তথা খড়্গপুর সদর আসনের পর্যবেক্ষক। তিন আসনেই তৃণমূলের জয় যে অনিবার্য তা আন্দাজ করেই তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান দিদি।
তিনি বলেন, “লোকসভা ভোটের পর থেকেই বিজেপির দম্ভ বেড়ে গিয়েছিল। এনআরসি করে দাও, একে নাগরিকত্ব দাও ওকে দেশ থেকে বের করে দাও। যেন জমিদারি ওদের। নাগরিকত্ব দেওয়ার ওরা কে! এমনিতেই তো সবাই এ দেশের নাগরিক”।
করিমপুরে যে তৃণমূলের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে তা শাসক দলের নেতারা আগেই বলছিলেন। কারণ করিমপুর ২ নম্বর ব্লক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। কিন্তু তৃণমূল স্বপ্নেও ভাবেনি যে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনেও তাঁরা জিততে পারেন। ষোল সালের বিধানসভা ভোটেও কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেসের কাছে ৪৬ হাজার ভোটে হেরেছিল তৃণমূল। উনিশের লোকসভা ভোটে তৃণমূল সেখানে পিছিয়ে ছিল ৫৬ হাজারেরও বেশি ভোটে। সেই ব্যবধান কমিয়ে দিয়ে তৃণমূল যে কালিয়াগঞ্জে ২৩০৪ ভোটে জিতেছে তা আদতে বিপুল জয়।
একই ভাবে বরাবরই খড়্গপুর বিধানসভা আসন অধরা ছিল তৃণমূলের কাছে। ষোলোর ভোটে এবং উনিশের লোকসভা ভোটে খড়্গপুরে জিতেছিল বিজেপি। লোকসভায় সেখানে ৪৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানের জিতেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু সেই ব্যবধান মুছে দিয়ে যে ভাবে খড়্গপুরেও এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল তা ঐতিহাসিক বললে কোনও অতিশয়োক্তি হবে না।
মমতা এ দিন বলেন, বিজেপি এর আগে কালিয়াগঞ্জের রাজবংশীদের ভুল বুঝিয়েছিল। কিন্তু এবার আর তাঁরা বিজেপি-র ফাঁদে পা দেননি। তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। খড়্গপুরে আবার অবাঙালিরা আমাদের প্রচুর ভোট দিয়েছেন। সব ধর্ম, জাতি ও ভাষাভাষি মানুষ যে তৃণমূলের পাশে রয়েছেন, আমাদের সমর্থন করছেন তা এই ভোট ফলাফলে পরিষ্কার। এই জয় তাই মানুষের জয়।
সন্দেহ নেই, এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই জয়। বিশেষ করে লোকসভা ভোটের পর যে সমালোচনা ও তীর্যক মন্তব্য রাজনৈতিক মহল থেকে উড়ে আসছিল, তা কাটিয়ে এ যেন শীতের গোড়াতেই বসন্ত এনে দিয়েছে তৃণমূলে।