দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্যজিৎ ভক্তদের জন্য সুসংবাদ। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন’ সেন্টার থেকে প্রকাশিত হল সত্যজিৎ রায়ের উপর লেখা প্রবন্ধের বিশেষ সংকলন ‘অপরাজিত সত্যজিৎ’। এ বছর বরেণ্য এই চলচিত্র পরিচালকের জন্ম শতবার্ষিকী। শতবর্ষে তাঁকে সম্মান জানাতেই এই গ্রন্থ প্রকাশের ভাবনা।
সংকলনে স্থান পেয়েছে সত্যজিৎ বিষয়ক ৫৫টি গদ্য, যাতে মানিকবাবুর সঙ্গে তাঁদের নানাসময়ের স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেছেন কেউ। কেউ আবার সমকালেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতার ছবি এঁকেছেন নানা কথায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, বাংলাদেশ ও ভারতের ৫৫ জন বিশিষ্ট লেখকের লেখা রয়েছে বইটিতে। প্রচ্ছদে আধুনিক ভাবনার প্রকাশ বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
বইটিতে স্থান পেয়েছে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রী, সত্যজিৎ গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিভিন্ন সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশনের সাংবাদিক, সম্পাদক সহ বাংলা সাহিত্যের দিকপাল লেখকদের লেখা প্রবন্ধ ও স্মৃতিচারণ। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তাঁর কথায়, “অপূর্ব সব ফ্রেমের পর ফ্রেম গড়ে সত্যজিৎ রায় আসলে বাংলা এবং বাকি বিশ্বের মধ্যে একটা সেতু তৈরি করেছিলেন। ওই সেতুতে গিয়ে দাঁড়িয়েছি আমি অনেকবার।” সৌমিত্র-কন্যা পৌলমী চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “কিছু মনীষী ছিলেন যাঁরা 'larger than life’ তাঁদের ফিলোজফি আজও আমাদের পাথেয়। আমাদের মননটা ছিল তাঁদের ঘিরেই। সেইরকমই একজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অন্যজন সত্যজিৎ রায়।” এম. জে আকবরের লেখায় উঠে এসেছে ব্যক্তি সত্যজিতের নানা অজানা দিক। তাঁর লেখা থেকে পাঠক জানতে পারবেন "সত্যজিৎ রায় কখনও সুরা স্পর্শ করেননি। প্রাতরাশে তাঁর টার্নটেবল গ্রামোফোনে বেটোফেন-এর সোনাটা শুনতেন একটি করে।"
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন' শাখার ইনচার্জ অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস জানালেন, “যুবক বয়সেই সাদাকালোর ম্যাজিক দেখিয়ে আন্তর্জাতিক হয়েছিলেন তিনি। অনেক অজানা কথা, অজানা ঘটনা, গবেষণা নিয়ে ‘অপরাজিত সত্যজিৎ’। সত্যজিৎ-চর্চার এ এক দুর্লভ সংকলন।” সত্যজিতের প্রথম ছবি 'পথের পাঁচালি' মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট। সেই দিনটিকে স্মরণে রেখে এই বইটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মানস কুমার সান্যাল। তিনি বলেন, "এই সংকলনটি প্রকাশ করে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় গর্ব অনুভব করছে।” কোভিড পরিস্থিতির জন্যে অনুষ্ঠান করা না গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।