
শেষ আপডেট: 24 March 2022 06:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বগটুই: পুড়ে খাক হওয়া মাটির বাড়িগুলোর কোনওটার চাল ছিল টিনের, কোনওটার খড়ের। যেখানে অনেকগুলো প্রাণ স্রেফ ঝলসেই শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে কার্যত শ্মশানের নিঃস্তব্ধতা (Bagtui Violence)।
বগটুই মোড়ে মমতার ছবি দেওয়া তোরণ, মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, ওদিকে গ্রামের হাওয়ায় পোড়া গন্ধ
পুড়ে মারা গেছেন ৮ জন। উঠোনের পাশে রয়েছে মিশন নির্মল বাংলা লেখা সরকারি শৌচাগার। পিছনে একটা টলটলে পুকুর। জনমানবহীন সেই বাড়িগুলো এখন পুলিশের ঘেরাটোপে। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও না।

এখন পোড়া গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে আছে বগটুই গ্রামের এই চত্বর। ইতিমধ্যেই গ্রামছাড়া হয়েছেন প্রায় ২০০ পরিবার। ঘরে ঘরে তালা। ঘটনা নিয়ে এলাকার কেউ টু-শব্দ করছেন না। অনেকেই দূর থেকে এসে গ্রামের আত্মীয়ের খোঁজ নিয়ে সকাল সকাল ফিরে গেছেন।

বগটুই গ্রামের ওই রাস্তাতেই মুদিখানা দোকানি এক মহিলা বললেন, 'আমরা গন্ডগোলের আওয়াজ শুনেই আমরা দরজা বন্ধ করে দিই। বাড়িতে বাচ্চা আছে। আমার খুব ভয়ে ছিলাম। রাতে কী হয়েছে জানিনা। পরে সব জানতে পারি।'
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিংসা বিধ্বস্ত এলাকায় আসবেন আজ। তাই সকাল থেকেই বাড়তি প্রশাসনিক তৎপরতা সত্ত্বেও থমথমে গোটা গ্রাম।
নিহত তৃণমূল উপপ্রধান ভাদু শেখের বাড়িতে বহু মানুষ রয়েছেন। ভাদুর সন্তান ও স্ত্রী রয়েছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে, জানা যাচ্ছে। তার আগে সেখানে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে, তাঁদের কেউ রাজি হলেন না।
বগটুই গ্রামের ঘটনাস্থলের পাশে ও পেছনে বড় কবরস্থান। সেই লাগোয়া পুকুরের পার ঘেঁষেই সেই বাড়ি। সেখানকার আকাশে এখনও ছাই উড়ছে। মৌলানা গোলাম বশির বললেন, 'এই গ্রামেরই একটি কবরস্থানে মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু সবার মৃত্যু একসঙ্গে হয়েছে, তাই একসঙ্গেই কবরস্থ করা হয়েছে দেহ।