
শেষ আপডেট: 8 November 2022 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: মাঠ ফিরে পেতে এবার প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনে নামল এলাকার খুদেরা (Agitation For Play Ground)। দুর্গাপুর (Durgapur) সিটি সেন্টার এলাকায় রয়েছে চতুরঙ্গ মাঠ। এলাকার খুদেরা সেখানে ফুটবল খেলে। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময়ে মাঠে চলতে থাকে নানান অনুষ্ঠান। কখনও পুজো, কখনও মেলা। ফলে মাঠের অবস্থা খুবই করুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে গর্ত। গোটা মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে থাকে পেরেক, পিন।
এলাকার মানুষের অভিযোগ, সন্ধে নামলেই দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে ওই মাঠ। তাই মাঠ বাঁচাতে এবার খুদেদের নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার প্ল্যাকার্ড হাতে খেলার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গাপুরের ঐহিত্যবাহী মাঠগুলির মধ্যে চতুরঙ্গ মাঠ অন্যতম। সেই মাঠের প্রবীণরা প্রাতঃভ্রমণ করেন। বড় বড় গর্ত থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অনুষ্ঠানের জন্য মাঠের ব্যবহার বন্ধ করুক কর্তৃপক্ষ। তাহলেই মাঠ বাঁচানো সম্ভব।
ধর্ষিতাকে ‘চরিত্রহীন’ অপবাদ দিয়ে বিতর্কে মালদহের তৃণমূল বিধায়ক
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এই মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর ডেভলমেন্ট অথারিটি অর্থাৎ এডিডিএ। মাঠে কোনও অনুষ্ঠান করতে গেলে তাঁদের অনুমতির প্রয়োজন হয়।
বিষয়টি নিয়ে এডিডিএ-র কাছে জানতে চাওয়া হলে সেখানকার এক আধিকারিক জানান, নিয়ম অনুযায়ী মাঠটি সকলের ব্যবহারের জন্য। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা মাঠ পরিষ্কার না করলে কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। যদি কোনও সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আন্দোলন নয়, আলোচনার মাধ্যমে মেটানো যেতে পারে।
এদিকে চতুরঙ্গ মাঠ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মাঠ বাঁচানো নিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তাঁর অভিযোগ, কাটমানির জন্য স্থানীয়দের কথা না ভেবে অনুষ্ঠানের জন্য মাঠ ভাড়া দিচ্ছে তৃণমূল। স্থানীয়রা চাইলে তিনি নিজেও আন্দোলনে সামিল হবেন।
এখন এই প্রতিবাদে বাস্তব অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় আবাসিকরা।