দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটার বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর যাওয়া নিয়ে যে তৃণমূল জলঘোলা করবে, সোমবার সকালে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন টুইট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লিখেছেন, "৭২ ঘণ্টা পরেও ভারত সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা নিজের বাড়ির ২০ মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে পারলেন না।" এখানে না থেমে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে অভিষেক লিখেছেন, "আপনি বিজেপির সিক্রেট জেনারেল, সলিসিটর জেনারেল নন।"
https://twitter.com/abhishekaitc/status/1411891736326987776?s=21
অভিষেক সকালে এই টুইট করছেন। এদিকে তৃণমূল আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছে দিল্লিতে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করবেন দুই সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এবং মহুয়া মৈত্র। মনে করা হচ্ছে সেখানেও মেটা প্রসঙ্গ জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে চাইবে বাংলার শাসকদল।
মেটা কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসও। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা টুইট করে লিখেছেন, ইউপিএ সরকারের সময়ে আইনমন্ত্রী সিবিআইয়ের হলফনামা দেখেছিলেন বলে বিজেপি অপসারণ দাবি করেছিল। এখন তাহলে কী হবে? একজন অভিযুক্ত কেন সলিসিটর জেনারেলের বাড়ি গেলেন? সলিসিটর জেনারল তথা সিবিআইয়ের আইনজীবী কি আইনত বা নৈতিকতার দিক থেকে এটা করতে পারেন?
প্রসঙ্গত, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি তলবের পরেও তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিল কংগ্রেস। মেটা-শুভেন্দু বৈঠক নিয়েও একই অবস্থান নিল তারা। যা কংগ্রেস ও তৃণমূল সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত বলেই মত পর্যবেক্ষকদের একাংশের।
https://twitter.com/rssurjewala/status/1411904112354947079?s=08
নানান উদাহরণ টেনে মেটার বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে তৃণমূল। গতকালই কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, কয়লা ব্লক কাণ্ডে এক অভিযুক্তের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে প্রাক্তন সিবিআই প্রধান রঞ্জিত সিনহার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তুষার মেটার ক্ষেত্রেও তা হওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, নারদ কাণ্ডে সিবিআইয়ের এফআইআরে নাম থাকা শুভেন্দু সলিসিটর জেনারেল তথা সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার মেটার বাড়ি যাওয়ার ঘটনায় ছাড় পাবেন কেন?
তৃণমূলের অভিযোগ, তদন্তে প্রভাব খাটাতেই তুষার মেটার বাড়ি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। যদিও শুভেন্দু-মেটা দুজনেই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন। সলিসিটর জেনারেল জানিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের দেখাই হয়নি। বাইরের ঘরে বেশ কিছুক্ষণ বসে, চা-বিস্কুট খেয়ে ফিরে গেছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। যদিও একথা মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস।