দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : সেই কু ঝিক ঝিক। সেই কয়লার ধোঁয়া। ট্রেন ছুটল খড়্গপুর থেকে। ইঞ্জিন যে সেই Bayer Garratt এর। ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ডে তৈরি। ট্রেন ছাড়ার আগে কয়লার ধোঁয়ায় খড়্গপুর স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম ঢেকে যেতেই শুরু হয়ে গেল পটাপট সেলফি। এইভাবেই শনিবার দুপুরে হাত ধরাধরি চলল বিংশ আর একবিংশের।
ইংল্যান্ডে তৈরি সেই যুগের দু’টি স্টিম ইঞ্জিনের একটি বর্তমানে রয়েছে দিল্লির মিউজিয়ামে। অন্যটি খড়্গপুরে। রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৬ সালে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে একবার এই ইঞ্জিনটি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। সেই থেকে এমনিই পড়েছিল ইঞ্জিনটি। খড়্গপুরেই। এ বছরের গোড়াতে আবার এই ইঞ্জিনটিকে হেরিটেজ হিসেবে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। তারপরেই শুরু হয় মেরামতি। চেন্নাই থেকে আসেন পাঁচজন মেকানিক।
গত পাঁচ মাস ধরে মেরামতির পরে এখন ইঞ্জিনটি ছোটার জন্য তৈরি কি না তা দেখতে শনিবার ট্র্যাকে নামানো হয়েছিল ৯৩ বছরের পুরনো বেয়ার গ্যারাট ইঞ্জিনটিকে। এর সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হয় তিনটি কামরা। তাতে সওয়ার ছিলেন রেলেরই আমন্ত্রিত অতিথিরা। সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করেন দক্ষিণ পূর্ব রেলের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জয়ন্তকুমার সাহা। গন্তব্য ছিল দুটি স্টেশন পরের শালবনি। কিন্তু পরের স্টেশন বকুলপুরে গিয়েই থেমে যায় ইঞ্জিন। এরপর অন্য ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেনটিকে আবার খড়্গপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।
জয়ন্তবাবু জানান, যেহেতু এমন ইঞ্জিন এই মুহূর্তে মাত্র দু’টিই আছে ভারতে, তাই একটিকে হেরিটেজ হিসেবে চালানোর ভাবনা রয়েছে রেল মন্ত্রকের। তিনি বলেন, “তবে কবে থেকে কোন রুটে চালানো হবে তা এখনও ঠিক করা হয়নি।”