দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: জগদ্দল থানায় স্বামী নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্ত্রী। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় এক বছর। সেই মামলা নাড়াচাড়া করতে গিয়েই চোখ কপালে উঠল পুলিশের। জানা গেল, নিখোঁজ নয়, খুন করা হয়েছিল তাঁকে। খুনের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাঁর স্ত্রীকে। পুলিশের জালে স্ত্রীর প্রেমিকও। তবে সেই প্রেমিককে ভুলে এখন নতুন সংসার ওই তরুণীর।
বছর খানেক আগে নিখোঁজ হয়ে যান শ্যামনগরের কাউগাছি এলাকার বাসিন্দা সমীর হালদার (৩৫)। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে জগদ্দল থানায় ছুটে আসেন সমীরের স্ত্রী সুস্মিতা। পুলিশের কাছে স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার আর্জি জানান। কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি সমীরকে। এক বছর ধরে আর কেউ খোঁজখবরও করেনি। হঠাৎই পুরনো মামলা ঘেঁটে আদৌ তিনি ফিরেছেন কি না জানতে সমীরের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। এরপর সুস্মিতার বাপের বাড়ি। সেখানে ওই দম্পতির দুই সন্তানের খোঁজ মিললেও পাওয়া যায়নি সুস্মিতাকে। তাঁর মায়ের কথায় সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে থানায় তুলে এনে জেরা করতেই জানা যায় বর্তমানে কাউগাছি এলাকায় থাকেন সুস্মিতা।
সেখানে হানা দিয়ে সুস্মিতার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। কথায় নানা অসঙ্গতি থাকায় থানায় এনে জেরা করতেই ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসে বেড়াল। পুলিশের দাবি, সুস্মিতা প্রাথমিকভাবে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরে জেরার মুখে ভেঙে পরে। জানায়, তার প্রেমিক অভি অধিকারীকে নিয়ে দিনের পর দিন অশান্তি চলছিল স্বামী সমীরের সঙ্গে। শেষমেশ তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল দুজন। এক রাতের অন্ধকারে দুজনে মিলে গলা টিপে খুন করে সমীরকে। তারপর দেহ রিক্সাভ্যানে চাপিয়ে বাড়ি থেকে আট কিলোমিটার দূরে এক পুকুরে ফেলে দিয়ে আসে। সুস্মিতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, তবে যার জন্য স্বামীকে খুন করেছিল সুস্মিতা, সেই অভির সঙ্গে সম্প্রতি আর যোগাযোগ নেই তাঁর। অভি বিবাহিত। সন্তানও রয়েছে। এখন সুস্মিতা অন্য আরেকজনের ঘরণী। কাউগাছিতে তাঁর নতুন সংসার। পুলিশের দাবি, কখনও পাশাপাশি কখনও একজনের আড়ালে অন্যজনকে বসিয়ে জেরা করে কীভাবে খুন তা এখন মোটের উপর স্পষ্ট।