দ্য ওয়াল ব্যুরো: একবার নয়, পর পর দু’বার দুর্গাপুজো হল নলহাটির গ্রামে।
বাংলায় দুর্গাপুজো শেষ। শিউলির গন্ধে আগমনীর সুর বিদায় নিয়েছে অনেকদিন হল। ঢাকের বোলে বিসর্জনের বাজনা বেজে গেছে। কিন্তু, নলহাটির প্রত্যন্ত শীতল গ্রামে এখনও দুর্গাপুজোর আমেজ। ষষ্ঠীতে বোধনের পর শুক্রবার নবমীর পুজোতে মেতে উঠেছে গোটা গ্রাম। অবাক হলেন? প্রথা মেনে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পরই মায়ের অকালবোধন শুরু হল শীতল গ্রামে। ফের একবার উমাকে বরণ করে ঘরে তুললেন গ্রামবাসীরা।
অকালবোধনের প্রথা শীতল গ্রামে আগে ছিল না। শুরু হল এ বছর থেকেই। এখন এটাই গ্রামের রীতি। এটাই রেওয়াজ। বুধবার ছিল সপ্তমী। বৃহস্পতিবার অষ্টমীর অঞ্জলি শেষে আজ নবমীর পুজো। আগামিকাল প্রতিমা নিরঞ্জন। অকালবোধন হলেও পুজোর রীতিতে কোনও খামতি নেই। সমস্ত উপচার মেনেই পুজো হচ্ছে গ্রামে, এমনটাই জানালেন গ্রামবাসীরা।
হঠাৎ কেন এই প্রথা? জানা গেল, দেবীপক্ষেই পুজোর রীতি ছিল গ্রামে। তবে, তাতে বাধা আসে। এক বর্ষীয়াণ গ্রামবাসীর কথায়, বিশুদ্ধ পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মেনে চারদিনই পুজো হয় বেশ ধূমধাম করেই। অঘটন ঘটে একাদশীর দিন। বিসর্জনের আগে গ্রামের এক মহিলা যখন মা’কে বরণ করতে যান, অসাবধানতা বশত প্রতিমার চুলে আগুন ধরে যায়। পুড়ে যায় মূর্তির বেশিরভাগ অংশই। এমন ঘটনার পরই অমঙ্গলের আশঙ্কায় এক অজানা ভীতি চেপে বসে গ্রামবাসীদের মধ্যে।
প্রায়শ্চিত্যের বিধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গ্রামেরই এক পুরোহিত নাকি নিদান দেন, নতুন করে প্রতিমা গড়ে মায়ের অকালবোধন করতে হবে। গ্রামেরই ১০১ জন মহিলা গঙ্গা থেকে কলসি ভরে জল এনে গোটা গ্রামে শুদ্ধিকরণ পুজো করেন। মূল পুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পরে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফের একবার মূর্তি গড়তে বসেন কুমোররা। নির্দিষ্ট দিন দেখে শুরু হয় পুজো।
পরপর দু’বার পুজোর খরচ উঠল কী ভাবে? এক গ্রামবাসী জানালেন, কষ্ট হলেও প্রায়শ্চিত্যের কথা মাথায় রেখে এই পুজো তাঁদের করতে হয়েছে। খরচের টাকা যোগাতে পাশাপাশি আরও কয়েকটা গ্রাম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।