আজন্ম হাত ও পায়ের আঙুল নেই সোনালির। শারীরিক সেই প্রতিবন্ধকতা সোনালির এগিয়ে চলার গতিকে রোধ করতে পারেনি। একই রকম মনোবলে SIR এর কাজও শেষ করে ফেললেন। বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বাঁকি গ্রামের বিএলও সোনালি কর কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার বহু আগেই সেরে ফেলেছেন এসআইআর এর প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ।

শেষ আপডেট: 2 December 2025 13:43
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: হাত ও পায়ের কোনও আঙুলই নেই, তবু নির্দিষ্ট সময়সীমার বহু আগেই ৯৯ শতাংশ কাজ সেরে নজির গড়লেন বাঁকুড়ার বাঁকি গ্রামের বিএলও সোনালি কর।
আজন্ম হাত ও পায়ের আঙুল নেই সোনালির। শারীরিক সেই প্রতিবন্ধকতা সোনালির এগিয়ে চলার গতিকে রোধ করতে পারেনি। একই রকম মনোবলে SIR এর কাজও শেষ করে ফেললেন। বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বাঁকি গ্রামের বিএলও সোনালি কর কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার বহু আগেই সেরে ফেলেছেন এসআইআর এর প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ।
রাজ্য জুড়ে SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিএলওদের কান্না দেখেছেন রাজ্যের মানুষ। কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে, কেউ আবার ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে। এরই মাঝে যেন ব্যতিক্রমী মুখ বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বাঁকি গ্রামের সোনালি। হাতের চেটোয় বিশেষ কায়দায় পেনসিল ও কলম ধরে সাধারণ স্কুলেই লেখাপড়া করে পাশ করেছেন। ১৯৯৯ সালে বাঁকুড়া জেলা সারদামণি মহিলা কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন সোনালী। তারপর গ্রামেরই আইসিডিএস কর্মী হিসাবে কাজে যোগ দেন। সম্প্রতি SIR এর কাজ শুরু হলে সোনালির ঘাড়ে দায়িত্ব পড়ে বিএলওর। সোনালি বলেন, "আমি ভয় পাইনি। কারণ আমার হাতের আঙুল নেই। এর সঙ্গে আমি পরিচিত। আমি এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা করেছি। চাকরিও করছি। তাই মনে হয়েছে SIR এর কাজ করতে গিয়ে কী আর এমন করতে হবে, যা আমি পারব না!"
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সূচী অনুযায়ী বাঁকি গ্রামের ১৬ নম্বর বুথে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এনুমারেশান ফর্ম বিলি করেন তিনি। আইসিডিএস এর কাজ সামলে সময়মতো ভোটারদের পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করে, সেই ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শুরু করেন। আঙুলহীন হাতে যেভাবে কলম ধরে ভোটারদের এনুমারেশান ফর্ম সংশোধন করেছেন তেমনই সেই হাতেই মোবাইলে কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টাল খুলে তাতে আপলোড করেছেন ভোটারদের নির্দিষ্ট তথ্য।
তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত বাঁকি গ্রামের মানুষজন। তাঁরা বলছেন, ছোট থেকেই লড়াইয়ে মেয়েটা। হেরে যেতে শেখেনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করেই পড়াশোনা শিখেছে। চাকরি করছে। এবার নির্বাচন কমিশনের দেওয়া দায়িত্বও পালন করছেন যথাযথভাবে। আসলে ইচ্ছে আর মনের জোরটাই যে সব। বাকি সব তো এমনিই হয়।