যোগী না এলে শেষকৃত্য হবে না, জানাল উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণীর পরিবার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এসে কথা না বললে শেষকৃত্য হবে না উন্নাওয়ের ধর্ষিতা মৃত তরুণীর। এমনটাই জানিয়েছে ওই তরুণীর পরিবার। তাঁদের দাবি, তরুণীর শেষকৃত্য হওয়ার আগে যোগী আদিত্যনাথকে গ্রামে এসে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি চা
শেষ আপডেট: 8 December 2019 07:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এসে কথা না বললে শেষকৃত্য হবে না উন্নাওয়ের ধর্ষিতা মৃত তরুণীর। এমনটাই জানিয়েছে ওই তরুণীর পরিবার। তাঁদের দাবি, তরুণীর শেষকৃত্য হওয়ার আগে যোগী আদিত্যনাথকে গ্রামে এসে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরির জন্যও আবেদন করেছেন মৃতার বোন।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দুই মন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন ওই তরুণীর বাড়িতে। তাঁরা গিয়ে কথা বলেছেন মৃতার পরিবারের সঙ্গে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ওই পরিবারকে। পাকা বাড়িও করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে মৃতার বাবা জানিয়েছেন, তিনি লোভী নন। বাড়ি তাঁর চাই না। শুধু চান তাঁর মেয়ের সঙ্গে যারা এমন করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। নয়তো হায়দরাবাদের মত গুলি করে মারা হয়। সরকার এবং প্রশাসনের কাছে একই দাবি মৃতার দাদারও। তিনি বলেন, "বোন বেঁচে থাকতে ওদের ফাঁসি দেখতে চেয়েছিল। ও তো আর নেই। তাই এই পাঁচজন বেঁচে থাকুক সেটাও চাই না।"

গত বৃহস্পতিবার রায়বরেলির আদালতে সাক্ষী দিতে যাচ্ছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণী। সেই সময় তাঁর উপর আক্রমণ করে অভিযুক্তরা। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তরুণীর গ্রামেই ঘোরাফেরা করছিল তারা। সেদিন তরুণী ট্রেন ধরার জন্য রেল গেটের কাছে আসতেই তাঁকে টেনে হিঁচড়ে পাশের ঝোপে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে কোপ মারা হয় তরুণীকে। তারপর পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় তাঁকে।
জ্বলন্ত অবস্থায় এক কিলোমিটার ছোটেন তরুণী। স্থানীয় এক পথচারীর থেকে মোবাইল নিয়ে ফোন করে নিজেই খবর দেন পুলিশে। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৯০ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে লখনউয়ের হাসপাতালে ভর্তি হন তরুণী। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়ে অপরাধীর নামও জানান তিনি। এরপর ৫ অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তরুণীকে নিয়ে আসা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় তরুণীর। চিকিৎসকরা জানান, প্রথম থেকেই দ্রুত ক্ষত বাড়ছিল তরুণীর। অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। তবে শুক্রবার রাতে ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ হার্ট অ্যাটাক হয় তরুণীর। এর মিনিট কুড়ির মধ্যেই লড়াই থেমে যায় উন্নাওয়ের ধর্ষিতার।