
শেষ আপডেট: 9 June 2021 10:57
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিক্রমা করে। আবার চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজের উপবৃত্তাকার কক্ষে চক্কর মারে। এইভাবে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী এক সরলরেখায় চলে আসে তখন গ্রহণ হয়। পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে চলে আসে চাঁদ, ফলে চাঁদের ছায়া পড়ে সূর্যের ওপরে। ফলে সূর্যের আলো কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীতে আসতে পারে না। তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
সূর্যগ্রহণ তিন রকম হয়—পূর্ণগ্রাস, খণ্ডগ্রাস ও বলয়গ্রাস। পূর্ণগ্রাসে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ সম্পূর্ণভাবে একই সরলরেখায় আসে। সেক্ষেত্রে সূর্যের আলো চাঁদের দ্বারা পুরোপুরি বাধা পায়। ফলে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের আলো দেখতেই পাওয়া যায় না। মনে হয় যেন পৃথিবীতে রাত নেমে এল, তখন হয় পূর্ণগ্রাস।
সূর্যের বলয়গ্রাসের সময় চাঁদ শুধুই সূর্যের কেন্দ্রটিকে ঢেকে দেয়। অর্থাৎ পূর্ণগ্রাসের মতো পুরোপুরি চাঁদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে না সূর্য। যার ফলে সূর্যের মাঝখানের অংশটা গোল চাকতির মতো ঢাকা পড়ে যায় আর তার চারদিক থেকে আলো ঠিকরে বেরিয়ে আসে। মনে হয় সূর্যকে ঘিরে কোনও আগুনের বলয় তৈরি হয়েছে। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে বলে রিং অব ফায়ার।
কোথা থেকে দেখা যাবে? ১০ জুন রিং অব ফায়ার দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব কানাডা, উত্তর মেরুর কিছু অংশ ও রাশিয়া থেকে। অন্যদিকে, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়াতে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ভারতের অরুণাচল ও লাদাখ থেকে কিছুটা দেখা যাবে।
২০১২ সালে আমেরিকায় রিং অব ফায়ার দেখা গিয়েছিল। এরপরে ২০১৭ সালেও বলয়গ্রাস গ্রহণের দিন রিং অব ফায়ার দেখা যায়। তবে ভারত থেকে সেই সূর্যগ্রহণ দেখা যায়নি। চিলি, আর্জেন্টিনা, জাম্বিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে দেখা গিয়েছিল। ২০১৯ সালে ভারত থেকে দেখা গিয়েছিল বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে শুধু দক্ষিণ ভারত থেকে সেই অসাধারণ মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, কলকাতা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। গত বছরও হয়েছে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ, তবে বলয়গ্রাসের পথ ছিল উত্তর ভারতের উপর দিয়ে। কলকাতা-সহ ভারতের বাকি অংশে শুধুই আংশিক গ্রহণ দেখা গিয়েছিল।