দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিস্ফোরণ ভূস্বর্গে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ জম্মুর সরকারি বাস স্ট্যন্ডে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে ১ যুবক নিহত হয়েছেন। অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে জম্মু সরকারি হাসপাতালে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় হঠাৎ করে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বাস স্ট্যান্ড। জম্মুর খুব গুরুত্বপূর্ণ এই বাস স্ট্যান্ডে সেই সময় অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এই বাস স্ট্যান্ড থেকে ভিন্ন রাজ্যের উদ্দেশেও বাস ছাড়ে। ফলে অন্য রাজ্যের মানুষও ছিলেন সেখানে। আর ঠিক সেই সময়েই হয় এই বিস্ফোরণ।
বিস্ফোরণের পরেই পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বাস স্ট্যান্ডের ভিতর থেকে সবাইকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়। এই বিস্ফোরণে অন্তত ২৯ জন আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আহতদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় জম্মু সরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মারা যান ১ যুবক। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বাকিদের মধ্যেও কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের আইজিপি মনীশ কুমার সিন্হা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে, বাস স্ট্যান্ডের বাইরে থেকেই এই গ্রেনেডটি ছোড়া হয়েছিল। গ্রেনেডটি গিয়ে পড়ে একটি বাসের নীচে। তারপরেই বিস্ফোরণ হয়। ভাগ্যক্রমে সেই সময় বাসের ভেতরে কোনও যাত্রী ছিলেন না। ফলে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।
কে বা কারা এই বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠনই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। বাস স্ট্যান্ডের ভিতর লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আশেপাশের লোকদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ জড়ো করছে পুলিশ। পুরো তদন্ত হলেই সবটা পরিষ্কার হবে, এমনটাই বক্তব্য পুলিশের।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় মানুষদের। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় সেখানে ৫ জন দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন হয়তো বাসের টায়ার ফেটেছে। কিন্তু তারপরেই বুঝতে পারেন বিস্ফোরণ হয়েছে। এমনিতেই পুলওয়ামার সিআরপিএফ কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি। প্রত্যেকদিনই নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই চলছে। এ দিকে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলি চালিয়েই যাচ্ছে পাক রেঞ্জার্স। হচ্ছে মর্টার শেলিং। ফলে সীমান্তে আরও ৪০০ বাঙ্কার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনা।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কাশ্মীর মুড়ে ফেলা হয়েছে সেনা ও পুলিশে। উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১০ হাজার সেনাকে। তারপরেও লাগাতার কীভাবে হামলা হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-pakistan-intelligence-used-jaish-for-attacks-in-india-pervez-musharraf/