দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোলিও রোগের চিকিৎসা করতেন তিনি। পবিত্র আগুনের কুণ্ডের উপর একটা দড়ি'তে নিজের পা উপরের দিকে মাথা নীচের দিকে রেখে ঝুলতে ঝুলতে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতেন যাতে পোলিও আক্রান্তেরা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু তাঁর পার্থনা শুনলেন না ভগবান। দড়ি ছিঁড়ে পড়ে গেলেন বাবা। আগুনে পুড়ে গিয়ে বাবা এখন হাসপাতালে।
সূত্রের খবর, বছর ৩০'র সাধু ভবানী শঙ্কর নন্দ গত এক মাস ধরে ওড়িশার বালিগুডার মহামায়ী মন্দিরে পোলিও আক্রান্তদের ঠিক করার জন্য এই পুজোর আয়োজন করতেন। তার জন্য এক পবিত্র আগুনের কুণ্ডের উপর একটা দড়ির সাহায্যে ভবানীর পা উপরের দিকে বাঁধা থাকত। মাথা নীচের দিকে থাকা অবস্থায় ঝুলতে ঝুলতে একটা ত্রিশূল হাতে নিয়ে মা কালীর কাছে প্রার্থনা করতেন তিনি। অন্য এক সাধু তাঁকে ঘোরাতেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু গত সপ্তাহে এই প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একটু গড়বড় হয়ে যায়। দড়ি ছিঁড়ে সাধু বাবা আগুনের উপর গিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ওই মন্দিরের সভাপতি মুক্তা নায়েক ও আরও কয়েকজন মিলে তাঁকে উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলছে ভবানী শঙ্করের। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর দেহের ২০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। এখন কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে তাঁকে।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই বালিগুডা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ধরণের বুজরুকির জন্য ভবানী শঙ্কর নন্দ ও আরও কয়েকজন সাধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ভবানী সুস্থ হলেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেবে পুলিশ। সেখানকার এক সমাজকর্মী জানান, ওড়িশার কেওনঝড়, রাইগাড়া, গাজাপাতি, কোরাপুট, ময়ুরভঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে এই ধরণের কুসংস্কারের প্রভাব অনেক বেশি। ২০১৬ সালের ডেটা অনুযায়ী শুধু ওই এক বছরে ওড়িশায় এই ধরণের কুসংস্কারের বলি হয়েছেন ২৪ জন। এই সংখ্যা ঝাড়খণ্ডের ( ২৭ ) পরেই।