দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবারের পর থেকে আরও খারাপ হয়েছে অসমের বন্যা পরিস্থিতি। নতুন করে বৃষ্টির ফলে ফের জলমগ্ন হয়েছে একাধিক এলাকা। এ যাবৎ এই দ্বিতীয়বারের বন্যায় অসমে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৯০ জনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ লক্ষ মানুষ। উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে দুর্যোগের বলি হয়েছেন ৫ জন। বন্যায় বেহাল দশা বিহারেরও। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ লোক এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলের তলায় ডুবে গিয়েছে বিহারের অন্তত ১০টি জেলা। তবে এখনও পর্যন্ত বন্যায় পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে কারও মৃত্যু হয়নি।
অসমে মানুষের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণ। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক এবং টাইগার রিজার্ভের প্রায় ৯০ শতাংশ জলে ডুবে গিয়েছে। একই অবস্থা পবিতরাতেও। এখনও পর্যন্ত মোট ৯টি গণ্ডারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বন্যার জল থেকে প্রাণ বাঁচাতে, কোথাও বা জলের তোড়ে ভেসে লোকালয়ে হাজির হয়েছে বাঘ-গণ্ডার। তবে অসংখ্য বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করে সংরক্ষণাগারেও পাঠিয়েছেন বনদফতরের কর্মীরা। অন্যদিকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী বিভাগের ডিজি এস এন প্রধান জানিয়েছেন উদ্ধার কাজের জন্য অসমে ১৬টি এবং বিহারে ২০টি এনডিআরএফ-এর টিম এখন কাজ করছে। জানা গিয়েছে মেঘলয়েও বন্যায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ। অতি ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অরুণাচলপ্রদেশেও।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অসমে এখনও জলের তলায় রয়েছে ২৬টি জেলা। বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে একরের পর একর চাষের জমি। এ যাবৎ কাজিরাঙায় ১২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে বন্যায়। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪৭টি বন্যপ্রাণ। এ বছর বন্যা এবং ভূমিধসে অসমে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১৫ জনের। তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ২৬ জন মারা গিয়েছেন ভূমিধসে। নতুন করে অসমে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি। ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র-সহ অসমের একাধিক নদী। একই অবস্থা বিহারেও। নতুন করে বৃষ্টির জেরে কোশি, গন্ডক-সহ একাধিক নদীতে লাগামছাড়া ভাবে বেড়েছে জলের মাত্রা।
মৌসম ভবন তাদের বুলেটিন জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অসম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, বিহার, পঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত মৌসুমী অক্ষরেখা ক্রমশ উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে। এর জেরে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প ভূখণ্ডে ঢুকছে। তার ফলেই হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত।
রবিবার সকালে তুমুল বৃষ্টি হয়েছে দিল্লিতে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে যায় রাজধানী শহরের একাংশ। জলমগ্ন রাস্তায় ডুবে যায় বাস-গাড়ি। মৃত্যুও হয়েছে ২ জনের। বুধবার ফের ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায়। আইএমডি জানিয়েছে, রাজধানীর পারদ নেমেছে ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান এবং রেকর্ড অনুযায়ী গত ৫ বছরে এই প্রথম জুলাই মাসে রাজধানী শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এতটা কমেছে।