
শেষ আপডেট: 3 July 2019 11:24
দিন কয়েক আগে পোলার বিয়ারের যে ছবি উঠে এসেছিল, তাতে দেখা যায়, শহরের বাইরে থেকে ধুঁকতে ধুঁকতে ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত একটা মেরু ভল্লুক জনবসতিতে এসে পড়েছে। সে কাদা মাখা, জীর্ণ শরীরেরই খাবার খুঁজে চলেছে সব জায়গায়। কখনও আবার ভীষণ ক্লান্ত হয়ে সে মাঝ রাস্তায় শুয়েও পড়ছে। তার চোখে জল।
এই ঘটনায় সামনে এসেছিল, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে কতটা অসহায় মেরুপ্রদেশের প্রাণীরা। এ দিন খ্যাঁকশিয়ালটি হেঁটে আসার ঘটনায় সেই অসহায়তাই ফের সামনে এল।
‘নরওয়েজিয়ান পোলার ইনস্টিটিউটে’র গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সুমেরু খ্যাঁকশিয়ালের উপকূলীয় উপপ্রজাতির ওই শিয়ালটির দেহে ‘স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং চিপস’ বসিয়েছিলেন তাঁরা। উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, গত ২৬ মার্চ নরওয়ের স্পিটবার্জেন শহর থেকে দক্ষিণ দিকে ভেসে আসতে শুরু করেছিল সে। সমুদ্রে জমাট বাঁধা একটি বিশাল হিমশৈলের মাথায় চড়ে ভােসে আসছিল সেটি।
২১ দিনে ১,৫১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছয় সে। এর পরে ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় তার হাঁটা। ‘নরওয়েজিয়ান পোলার ইনস্টিটিউটে’র গবেষক ইভা ফুগলেই মঙ্গলবার বলেন, "১ জুলাই কানাডার এলিসমেয়ার দ্বীপের কাছে ওই খ্যাঁকশিয়ালটিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে।" ইভার দাবি, হিমবাহের উপর দিয়ে এমন দীর্ঘ যাত্রার রেকর্ড নেই অন্য কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর।
দেখে নিন তার যাত্রাপথ।
উপগ্রহচিত্র থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৪৬.৩ কিলোমিটার পথ হেঁটেছে ওই খ্যাঁকশিয়ালটি। তবে তার গলায় বাঁধা জিপিএস ট্র্যাকারের হিসেব জানাচ্ছে, উত্তর গ্রিনল্যান্ডের চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় কবলে পড়ে এক দিনে প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার হেঁটেছিল সে।
ইভা জানিয়েছেন, মেরুর খ্যাঁকশিয়ালরা হিমাঙ্কের ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচের তাপমাত্রাতেও খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তাই বিস্তীর্ণ তুষারক্ষেত্র পাড়ি দিয়েও এখনও বেশ সুস্থ-সবল রয়েছে মাত্র ৭ কিলোগ্রাম ওজনের খ্যাঁকশিয়ালটি।
ইভা এবং তাঁর সহ-বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রে দাবি, সুমেরীয় খ্যাঁকশিয়ালদের ক্ষেত্রে এটি শুধু দীর্ঘতম নয়, দ্রুততম পরিযানেরও রেকর্ড। তবে শুধু খাদ্য বা আশ্রয়ের সন্ধান নয়, প্রজননের সঙ্গী খোঁজার জন্যেও সুমেরুর খ্যাঁকশিয়ালরা পরিযায়ী হয় বলে তাঁদের দাবি।
নরওয়ের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী ওলা এলভেস্টল এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন, "সমুদ্রে জমা বরফ যে প্রাণীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ফের প্রমাণিত হল।"