পরে কৃষ্ণেন্দু তার মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরে। অভিযোগ, এই অপমান সইতে না পেরে সে বাড়িতে ঢুকেই কীটনাশক খেয়ে ফেলে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
এই ঘটনায় অবশ্য অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের স্ত্রী নিশা দীক্ষিত দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'বাচ্চাটা দোকানে এসেছিল, ওর সামনে থেকে চিপস নিয়ে চলে যায়। শুভঙ্কর বাইক নিয়ে গিয়ে ছেলেটিকে দেখে। ও ভয় পেয়ে চিপস ফেলে দেয়। ও তখন তাকে বকাঝকা করে এবং ছেড়ে দেয়।' নিশা আরও দাবি করেন, 'কোনওরকম হেনস্থা করা হয়নি, বরং ছেলেটি নিজেই ভুল বুঝে মাফ চাইতে থাকে।'
এদিকে নিশা স্বামীকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও, ঘটনার পর থেকেই শুভঙ্করের খোঁজ মিলছে না। সোমবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণেন্দুর মৃতদেহ নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সেই ক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে জনতার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। ৫ জন গ্রামবাসীকে আটকও করা হয়। এলাকায় মোতায়েন করা হয় র্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন শুভঙ্কর দীক্ষিত। তাঁর দাদা এবং তিনি একসঙ্গে মিষ্টি ও ফাস্টফুডের দোকান চালান। সেই দোকান থেকেই চিপস নেওয়ার অভিযোগে কৃষ্ণেন্দুকে অপমানিত হতে হয়।
কৃষ্ণেন্দুর পরিবারের বক্তব্য, একটা বাচ্চা ছেলে এভাবে অপমানিত হয়েছে। একজন সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি যদি শিশুদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। যদিও কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে জনরোষের আগুন থামছে না।
ঘটনার দিন থেকে শুভঙ্করের পালানো, পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তা এবং লাঠিচার্জের ঘটনা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কেন অভিযুক্তকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি? কিশোরের মৃত্যু কি শুধুই ‘ভুল বোঝাবুঝি’? নাকি সত্যিই অভিযুক্তর আক্রমণাত্মক মনোভাবই দায়ী? পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।