
শেষ আপডেট: 15 July 2020 18:30
লকডাউনের প্রভাব পড়েছে নানা বয়সের মানুষের উপরে। ‘জেন জেড’ অর্থাৎ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীরাও নানা কারণে মানসিক চাপ ও অবসাদের শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যার কারণ অনেক। যেমন, মেলামেশা বন্ধ, সারাদিন বাড়িতে ইন্টারনেটে ডুবে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে অনেকেরই। সামান্য কারণেই বিরক্ত হতে দেখা যাচ্ছে তরুণ, তরণীদের।
করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ছে। অতএব অন্দরবাসেই থাকতে হবে বেশিটা সময়। বাইরে বের হলে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলতে হবে। সুরক্ষার জন্যই সামাজিক মেলামেশা প্রায় বন্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ঘরবন্দি অবস্থাতেই যেহেতু থাকতে হবে, তাই তার মাঝেও মনকে চাঙ্গা ও ঝরঝরে রাখার উপায় খুঁজে নিতে হবে। সেটা কীভাবে? উদাহরণ দিয়ে টাটার নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ কবিতা দেবগন বলেছেন, হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপ এই সময়ের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট। বিশেষত ভারতের মতো দেশে। উচ্চ রক্তচাপ বেশি কাবু করছে পুরুষদের। তাই সুস্থ থাকতে লাইফস্টাইলে কিছু বদল আনার দরকার। তিনি বলছেন, “বাড়িতে বসে কাজের মাঝেই সময় করে এক ঘণ্টা একটু হাঁটুন। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার না দিয়ে, বাড়িতেই কোনও পছন্দের ডিশ বানিয়ে ফেলুন। মন অনেক হাল্কা হবে। এই সময় শরীরচর্চাও খুব জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার ইত্যাদিতে শরীর ও মন দুই তরতাজা থাকবে।” কবিতার কথায়, রাতে টানা ঘুমটাও জরুরি। অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার প্রত্যেকেরই।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রান্নায় লো সোডিয়াম সল্ট খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন কবিতা। তিনি বলেছেন, এই সময় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে অনেকেরই। বাড়িতেই রেস্তোরাঁর মতো তেল-মশলাদার খাবার বানিয়ে খাওয়ার ঝোঁক বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সময় মেপে এবং বুঝে সঠিক ডায়েট মেনে চলা উচিত। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সাধারণ নুনের বদলে লো সোডিয়ান সল্ট খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রনও থাকে। সময়ান্তরে রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াও দরকার।
লকডাউনের আরও একটা বড় প্রভাব পড়েছে অনলাইন শপিং সংস্থার ব্যবসাতেও। অ্যাসেঞ্চারের সাম্প্রতিক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, গ্রাহকদের শপিং করার ধরনেও অনেক বদল এসেছে। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টের প্যাকেজড ফুড ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট রিচা অরোরা বলছেন, বাড়ির মতো স্বাদের খাবারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেখা গেছে গ্রাহকরা নানা রকমের ডাল, মাল্টিগ্রেন ফুড ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর খাবারের অর্ডার বেশি দিচ্ছেন। তাই সেই মতো ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে অনলাইন স্টোরগুলিতে।