অশোক মালহোত্রা
এমন চিত্রনাট্য কে লিখল শেষমেশ? যেদিন দুটি ম্যাচের দুটিই গড়াল সুপার ওভারে। নাইটরা জিতল সুপার ওভারের নিরিখে, আর অন্য ম্যাচে শেষ হাসি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। তাও তিনটি সুপার ওভারে ম্যাচ শেষ হচ্ছে, এমন দৃশ্য এর আগের ১২ বারের আইপিএলে দেখা যায়নি। তার মানে রবিবার আইপিএলে মোট চারটি সুপার হয়েছে, এটিও বিরলতম নজির।
সুপার ওভারে একবার বুমরা বাজিমাত করেছে, অপরদিকে সামিও দেখিয়েছে সেও কম যায় না। শেষমেশ অবশ্য তিনটি সুপার ওভারে কিংসদের জয় নিশ্চিত করেছে দ্য বস ক্রিস গেইল।
ম্যাচ যা হয়েছে, তাতে বাকি ম্যাচের বিশ্লেষণ খুব গৌণই। তবুও লিখতে গেলে বলতে হবে এই ম্যাচে আসল নায়ক কিংসদের নেতা লোকেশ রাহুল। প্রতি ম্যাচে এসে লোকেশ রাহুলকে টানতে হবে, এমন বিষয়টি সত্যি কিংস ইলেভেনের পক্ষে ভাল নয়। গত ম্যাচেও লোকেশ টেনেছিল, এই ম্যাচেও তাই। একটা দলের ক্যাপ্টেন যদি ভাল খেলে, তা হলে পুরো দলটি চাঙ্গা থাকে, এটাই নিয়ম। কিন্তু কিংস ইলেভেন দলটিতে এরকম ছবি দেখতে পাচ্ছি না। ২০ ওভারের মধ্যে রাহুল শেষমেশ ৫১ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যশপ্রিৎ বুমরার বলে উইকেট দিয়ে চলে গেল।
গত ম্যাচে গেইলের ঝড় দুটি দলের মধ্যে ফারাক গড়ে দিয়েছিল। তারপর তো লোকেশের ইনিংস ছিলই। কিন্তু এই ম্যাচে গেইল (২১ বলে ২৪) ফিরতে দলকে টেনেছে রাহুলই। চলতি আইপিএলে দারুণ ফর্মে বিরাজ করছে নামী এই তারকা।
গত খেলায় যে ছেলেটি শেষ বলে ছয় মেরে গেইলদের জিতিয়েছিল, সেই নিকোলাস পুরান ১২ বলে ২৪ রানের ঝটিতি ইনিংস খেললেও দলের কাজে আসেনি শেষমেশ। আর আমি অবাক গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে দেখে, এদিনও বিরাট একটা শূন্য উপহার দিয়েছে। কী কারণে তাকে এবার দশ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন প্রীতি জিন্টা, তিনিই হয়তো বলতে পারবেন। বিশ্বের এক নামী অলরাউন্ডার টানা ব্যর্থ হচ্ছে, জানি না ম্যাক্সকে কোনও কৈফিয়ত দিতে হয় কিনা!
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং এককথায় দুর্দান্ত। খেলায় হয়তো হার হয়েছে, কিন্তু তাদের দলে ভারসাম্য রয়েছে। চলতি আসরের সেরা বোলিং লাইনআপ রয়েছে। বুমরা, বোল্ট, পোলার্ড, ক্রুনাল, রাহুল চাহার, কুল্টার নাইলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বিপক্ষকে চাপে রাখার জন্য যথেষ্ট। বুমরা তো অসাধারণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়ে নিয়েছে ২৪ রানে।
মুম্বইয়ের ব্যাটিং বিভাগও শক্তিশালী। রোহিত শর্মা (৯), সূর্যকুমার যাদব (০) ফিরলেও কাজের কাজ করেছে কুইন্টন ডি’কক (৪৩ বলে ৫৩), ক্রুনাল পান্ডিয়া (৩০ বলে ৩৪) ও কাইরন পোলার্ড (১২ বলে ৩৪)। কুল্টার নাইলও ১২ বলে ২৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছে।
এবারের আইপিএলে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, শেষ চার ওভারে প্রতি দল ফারাক গড়ে দিচ্ছে। মুম্বইও এদিন শেষ চার ওভারে অনেক রান তুলে খেলার স্কোর ভাল জায়গায় শেষ করেছে। আবার কিংস ইলেভেনও খেলার শেষ চার ওভারে বন্যার জলের মতো রান তুলেছে। ১২ বলে ২৩ করতে হবে, কিংবা ৬ বলে ১৫ রান, এই অবস্থা থেকে দীপক হুডা ও ক্রিস জর্ডন যে গতিতে রান তুলছিল, মনে হয়েছে ম্যাচ বুঝি বের হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।