Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
হরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালকনববর্ষে স্মৃতির পাতায় ফিরলেন সাবিত্রী, বললেন—“আগে এত উদযাপন ছিল না”'আইপিএলের বাতিল ক্রিকেটাররাই পিএসএলে আসে!’ বোমা ফাটালেন খোদ পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকাহরমুজ বাধা টপকে গুজরাতে ভারতীয় জাহাজ! ট্রাম্পের অবরোধের মাঝেই স্বস্তি ফেরাল ‘জাগ বিক্রম’হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ! মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্ক

জাদুঘরে ১০৯ কোটির দুর্নীতির পাশাপাশি মূর্তি ভাঙা, অবৈজ্ঞানিকভাবে সংস্কারেরও অভিযোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ বছর হয়ে গেল কলকাতা জাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া অমূল্য বুদ্ধ মূর্তির হদিশ মেলেনি। কলকাতা পুলিশ, সিবিআইয়ের অনুসন্ধানে নানা সূত্র মিললেও মেলেনি বুদ্ধ মূর্তি। ২০০৪-এর সেই রহস্যজনক চুরির ঘটনার পর এবার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ন

জাদুঘরে ১০৯ কোটির দুর্নীতির পাশাপাশি মূর্তি ভাঙা, অবৈজ্ঞানিকভাবে সংস্কারেরও অভিযোগ

শেষ আপডেট: 1 December 2021 07:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ বছর হয়ে গেল কলকাতা জাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া অমূল্য বুদ্ধ মূর্তির হদিশ মেলেনি। কলকাতা পুলিশ, সিবিআইয়ের অনুসন্ধানে নানা সূত্র মিললেও মেলেনি বুদ্ধ মূর্তি। ২০০৪-এর সেই রহস্যজনক চুরির ঘটনার পর এবার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে শিরোনামে এই শহরে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরটি। সেই অভিযোগকে ঘিরে হতে পারে সিবিআই তদন্ত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সুবাদেই ফের সামনে আসতে শুরু করেছে কলকাতা জাদুঘরে চলে আসা অব্যবস্থার বিষয়টি। যে সংস্কারের কাজে বরাদ্দ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ঘিরে আদালত হস্তক্ষেপ করেছে, তাতে অন্যতম হাতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারেরই হিসাব পরীক্ষক কম্প্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের নোট। কিন্তু কলকাতা মিউজিয়াম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, আর্থিক নয়ছয়ের থেকেও বড় ক্ষতি হল জাদুঘরের অমূল্য সব প্রত্নসামগ্রীর ক্ষতি এবং তা হয়েছে সংস্কারের কাজ চলাকালীন। আর্থিক অনিয়ম, নয়ছয়ের সঙ্গে যা ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দুষ্পাপ্য, অমূল্য কিছু প্রত্নসামগ্রীর এমনই ক্ষতি হয়েছে যে সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে মিউজিয়াম বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত।   জাতীয় জাদুঘর সংস্কারে ১০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল আগের ইউপিএ সরকার। জাদুঘরের দু’শো বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ওই অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল প্রত্নসামগ্রী সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাড়িটির প্রয়োজীয়ন সংস্কারে। ওই কাজে বরাদ্দ অর্থ খরচেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত বছর মার্চে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেরের (সিএজি) সংসদে পেশ করা রিপোর্ট বলা হয়েছে, সংস্কারের একটি কাজের জন্য ৮৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল। সেই কাজে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। মিউজিয়ামের সামগ্রিক অবব্যবস্থা নিয়েও গুচ্ছ অভিযোগ তোলে সিএজি।   অনিয়ম হয়েছে কীভাবে? জাদুঘর সূত্রে জানা গিয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে মূল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা বিভিন্ন এজেন্সিকে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়। কাজ শুরু হলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেশিরভাগেরই প্রত্নসামগ্রী কীভাবে নাড়াচারা করতে হয়, কীভাবে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় সরাতে হয়, কীভাবে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হয়, সে ব্যাপারে উপযুক্ত শিক্ষা নেই। একটা সাধারণ বাসস্থান কিংবা অফিস-কাছারি সারাইয়ের কাজ যেভাবে করা হয়, ঠিকা কর্মীরা সেই ভাবে কাজ করছেন। সংস্কারের কাজ চলাকালীন পাইপলাইনের জলেও কিছু প্রত্নসামগ্রীর ক্ষতি হয়।   সংস্কারের সিদ্ধান্ত হওয়ার সময় কলকাতার জাতীয় জাদুঘরের অধিকর্তা ছিলেন অনুপ মতিলাল। বুধবার তিনি বলেন, সংস্কারের কাজ শুরুর মুখে জাদুঘরের অধিকর্তার পদ থেকে আমি বদলি হয়ে যাই। ফলে কারা কাজ করেছে, কীভাবে করেছে সে সম্পর্কে কিছুই জানা নেই। তিনি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনবিসিসি-কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে দেওয়া হয়েছিল। এনবিসিসি কোন কোন এজেন্সিকে কাজে যুক্ত করেছে তা জানার সুযোগ ছিল না। আরও কী কী ক্ষতি হয়েছে সংস্কারের কাজে? যেমন একটা সময় একটানা দীর্ঘদিন এয়ার কন্ডিশন মেশিন খারাপ থাকায় কলকাতা জাদুঘরে থাকা মমিটির ক্ষতি হয়। এয়ার কন্ডিশন মেশিন বন্ধ রাখাই শুধু নয়, মমিটি রাখা কাঁচের বাক্সের ভিতর রাখা সিলিকা জেল নিয়মিত বদলানো হত না সংস্কারের সময়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে কলকাতা জাদুঘর সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ ১০৯ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত সিবিআই তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে। জাদুঘরের প্রাক্তন কর্মী-অফিসার এমনকি অবসরপ্রাপ্ত অধিকর্তাদের অনেকে চাইছেন, জাতীয় জাদুঘরের বর্তমান পরিস্থিতি, মূর্তি-সহ বিভিন্ন প্রত্নসামগ্রী কী অবস্থায় আছে তা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করুক আদালত। সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি পৃথক অনুসন্ধানের ভার দেওয়া হোক বিশেষজ্ঞদের। কারণ, সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার প্রত্নসামগ্রী সম্পর্কে অনভিজ্ঞ লোকজনকে যুক্ত করাতেই স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে জাদুঘরের।   যেমন সংস্কারের সময় অনিভিজ্ঞ কর্মীদের হাত থেকে পড়ে দু-টুকরো হয়ে যায় একটি প্রাচীন স্তম্ভ। সেটি সম্রাট অশোকের সময়ে তৈরি। অমরাবতী থেকে পাওয়া একটি পাথরের স্তম্ভেরও ক্ষতি হয়। একই সময় মানভূম থেকে পাওয়া একটু দুর্গামূর্তিরও হাত ভাঙে। মিউজিয়াম বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টাকা নয়ছয়ের সঙ্গে ওতপ্রোত সম্পর্ক থাকতে পারে অনভিজ্ঞ এজেন্সিকে সংস্কারের কাজের বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্ত। সম্রাট অশোকের সময়ে তৈরি স্তম্ভটি ১৯০৭-এ বিহারের চম্পারণের খননস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সেটিতে গৌতম বুদ্ধর বাণী লেখা ছিল। চম্পারণের রামপূর্বা থেকে উদ্ধার হওয়া স্তম্ভটি রামপূর্বা লায়ন ক্যাপিটল নামে পরিচিত। পাথরের দুর্গামূর্তিটি উদ্ধার হয়েছিল তৎকালীন বিহারের মানভূম, অধূনা পুরুলিয়া থেকে ১৮৭০ সালে। অভিযোগ, সংস্কারের কাজ চলাকালীন অনেক সময়ই পুরাতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণ আধিকারিকেরা সেখানে থাকতেন না। জাদুঘরের কর্মী-অফিসারদের উপরই উচ্চ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণেই ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সংস্কারের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী, কিছু ক্ষেত্রে স্রেফ বালি-সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। প্রত্নসামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মিউজিয়াম ভবনেরও নানা ক্ষতি হয়েছে বলে জাদুঘরের কর্মী-অফিসারদের একাংশের ধারনা। তাদের বক্তব্য, একটা সময় সংস্কারের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল টাকা খরচ। সেই কারণে, বাড়িটির এমন অনেক অংশ সারানো হয়েছে যেখানে হাতুড়ি পেটা করার কোনও প্রয়োজনই ছিল না।

```