দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সন্ধের কিছু পরেই কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ঝড়ের দাপট দেখা গেছিল (Weather)। সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। আপাত দৃষ্টিতে বড় দুর্যোগ না হলেও ঝড়ের জেরে রাজ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গাছ পড়ে নিজের ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন এক ব্যক্তি! বারাসতে (Barasat) ঘটেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
বারাসত ইন্দিরা কলোনির বাসিন্দা গোবিন্দ বৈরাগী সন্ধে বেলা নিজের বাড়িতেই ছিলেন। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কোথাও বেরতে পারছিলেন না তাই নিজের ঘরে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁর ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে এক বিশালাকার গাছ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় মানুষ গাছ কেটে ঘর থেকে তাঁকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গোবিন্দকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
মৃতের আত্মীয় বলছেন, সন্ধে বেলা বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। অল্প কিছু খাওয়া-দাওয়া করে শুয়েছিলেন নিজের ঘরে। হঠাৎ তাঁরা খবর পান এই ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির কাছে এসে দেখেন, গোটা বাড়িটাই প্রায় ভেঙে পড়েছে কারণ তার ওপর আস্ত গাছ উপড়ে পড়ে। এই সময়ে শুধু গোবিন্দর দুটি পা দেখা যাচ্ছিল। এইভাবে তাঁর মৃত্যু হল, ভাবতেই পারছেন না কেউ।
অন্যদিক, বারাসতের আদিবাসী পাড়াতেও একটি গাছ উপড়ে পড়ে ছটি বাড়ির ওপর। তবে সেখানে হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে ছ'টি বাড়িই ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু'জায়গাতেই বিপর্যয় মোকাবিলার লোক কাজ করে অবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, রাত বাড়লে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। আর বৃষ্টিতে কলকাতা ছাড়াও মূলত ভিজতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও রবিবার পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
বিগত কিছুদিন ধরে গরমের দাপট আগের মতো না থাকলেও পুরোপুরি দাবদাহ যায়নি। হাওয়া অফিস বলছে, রবিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে কমতে পারে ঝড়-বৃষ্টি। তাই বলা যায়, আগামী সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রার বদল হতে পারে। এক কথায়, ফের গরম পড়বে। তার আগে বুধবারের পর বৃহস্পতিবার ফের ঝড়-বৃষ্টির দাপট দেখা গেল কলকাতা সহ একাধিক জেলায়।