‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতির দাবি নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব রাজ্য সরকার। এবার সেই দাবিকেই কার্যত খারিজ করল কেন্দ্র।

গঙ্গাসাগর মেলা
শেষ আপডেট: 18 August 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুম্ভমেলার মতোই গঙ্গাসাগর মেলাও যেন পায় ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি, এই দাবিতে বহুদিন ধরেই সরব রাজ্য সরকার। এবার সেই দাবিকেই কার্যত খারিজ করল কেন্দ্র।
লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময় বাংলার সাগরদ্বীপে গঙ্গা আর বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে আয়োজিত হয় গঙ্গাসাগর মেলা। জনসমাগমের নিরিখে যা কুম্ভমেলার পরেই স্থান পায়, বছরে প্রায় এক কোটির বেশি ভক্তের আগমন ঘটে এই তীর্থযাত্রায়। সেই তুলনায় কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
“গঙ্গাসাগরের জন্য সব করেছি, কেন্দ্র কিছুই করছে না,” আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড, হাসপাতাল, জেটি, পরিবহণের পরিকাঠামো।
তাঁর অভিযোগ, “কুম্ভমেলার জন্য কেন্দ্র হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে। অথচ গঙ্গাসাগর মেলা পায় অবহেলা। একই দেশে কেন্দ্রের দুই ধরনের আচরণ?”
এখানেই শেষ নয়। সাগরদ্বীপে পৌঁছনোর পথে এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সেতু নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছেন রাজ্যের প্রশাসন। এবারে গঙ্গাসাগর মেলার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সেতু তৈরির আশ্বাস দিলেও “তিন-চার বছর কেটে গেল, কিছুই হল না।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, "বাংলা কারও অবহেলা বরদাস্ত করে না। ওরা টাকা না দিলে আমরা নিজেরাই সেতু করব।”
নবান্ন সূত্রের খবর, সেই সেতু নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। সময় লাগবে তিন থেকে চার বছর। এছাড়াও, গঙ্গাসাগর তীরবর্তী কপিলমুনি আশ্রম বারবার সাগরের জলে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। তার স্থায়ী সমাধানের জন্য কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। অন্যদিকে, এদিন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দিতে তারা রাজি নয়।
যা শুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "এই মেলার সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রের উচিত ছিল বৈষম্য না করা। আসলে গঙ্গাসাগর বাংলায় অবস্থিত, তাই কেন্দ্রের এই অবহেলা।"