সাংবাদিক বৈঠকে অতীতের স্মৃতিও তুলে ধরেন প্রাক্তন ডেভিস কাপ তারকা। বলেন, ছোটবেলায় কলকাতার ময়দানেই তাঁর খেলাধুলার শুরু। জীবনের প্রথম পাঠ এখান থেকেই। তবে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গেই জুড়ে দেন বর্তমানের অভাব-অভিযোগ।

সাংবাদিক বৈঠকে লিয়েন্ডার পেজ
শেষ আপডেট: 4 April 2026 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতির ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করেছেন লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে (West Bengal Assembly Election 2026) তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন দেশের প্রাক্তন টেনিস তারকা। তাঁর বার্তা, 'কলকাতা আমার মাতৃভূমি। বাংলার যুবসমাজকে শক্তিশালী করে তোলা, আর কোনও ভাবেই রাজ্য যাতে ‘বৃদ্ধাশ্রমে’ পরিণত না হয় সেটা দেখব।'
দিল্লিতে যোগদানের পর কলকাতায় ফিরে সাংবাদিক বৈঠকেও একই সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। নিজের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বারবার ‘বাঙালি’ পরিচয়কেই সামনে এনেছেন লিয়েন্ডার। জানালেন, কলকাতায় জন্ম, বড় হয়ে ওঠা - এই শহরের সঙ্গেই তাঁর শিকড় জড়িয়ে। সেই কারণেই রাজ্যের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চান তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে অতীতের স্মৃতিও তুলে ধরেন প্রাক্তন ডেভিস কাপ তারকা। বলেন, ছোটবেলায় কলকাতার ময়দানেই তাঁর খেলাধুলার শুরু। জীবনের প্রথম পাঠ এখান থেকেই। তবে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গেই জুড়ে দেন বর্তমানের অভাব-অভিযোগ। লিয়েন্ডারের বক্তব্য, ফুটবল ও ক্রিকেটের জন্য রাজ্যে কিছু পরিকাঠামো থাকলেও অন্যান্য খেলাধুলার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ খুবই সীমিত। বিশেষ করে টেনিসের ক্ষেত্রে অবকাঠামোর অভাবের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর দাবি, রাজ্যে পর্যাপ্ত ইনডোর টেনিস কোর্ট নেই। গরম বা বর্ষার সময়ে খেলোয়াড়দের অনুশীলনে সমস্যা হয়। আলাদা টেনিস স্টেডিয়ামের অভাবও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি বদলানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপির নবাগত এই নেতা। তাঁর মতে, সঠিক সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে বাংলার যুবসমাজ নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারবে।
২০২১ সালের অক্টোবরে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে পানাজিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২৬-এর ভোটে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম ধরেছেন লিয়েন্ডার পেজ। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তাঁকে নিয়ে একাধিকবার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছিল। পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময়ও শোনা গিয়েছিল, তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
এবারও তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রশাসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন পেজ। বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশে যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।