শনিবার নবান্ন অভিযানে মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে, কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা পলা ভেঙে যায়। সেই নিয়েই প্রতিক্রিয়া দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা।

আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা
শেষ আপডেট: 10 August 2025 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "সরকার আমার মেয়ের মৃত্যুর দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারবে না। গতকাল আমাদের পুলিশ যে মেরেছে তার দায়ও সরকার এবং পুলিশ এড়াতে পারে না। পুলিশ কমিশনার আজ মুখে বলেছেন এই ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু মুখে বললেই তো হবে না, কাজে তার প্রতিফলন দেখাতে হবে।" শনিবার নবান্ন অভিযানে মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে, কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা পলা ভেঙে যায়। সেই নিয়েই প্রতিক্রিয়া দিলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা।
তিনি আরও বলেন, "আজ আমি সিপিকে একটা চড় মেরে বললাম সরি, তাহলে কি হয়ে যাবে? আমিও তাহলে এক্ষুনি যাচ্ছি সেই কাজ করতে। কলকাতা পুলিশ হল তৃণমূলের দলদাস। তৃণমূলকে সব সময় সব রকম ভাবে সহযোগিতা করে চলেছে।"
শনিবারের নবান্ন অভিযানে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে যোগ দেয় বিজেপি। তবে দলীয় পতাকা ছাড়া পথে নামেন শুভেন্দু অধিকারীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ ধর্মতলা থেকে রওনা হওয়া মিছিল পার্কস্ট্রিট মোড়ে পৌঁছাতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এই সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে, কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা পলা ভেঙে যায়।
ধস্তাধস্তির পর নির্ধারিত পথ ধরে রওনা হন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন প্রায় ৩০ জন সমর্থক, যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কৌস্তুভ বাগচিও ছিলেন। তাঁরা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে এগোতে থাকেন। তবে মূল মিছিল তখনও পার্কস্ট্রিট মোড়েই আটকে ছিল। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের অভিযোগ, রেসকোর্সের কাছেও তাঁদের পথ আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে একের পর এক গ্রিল, শালবল্লা ও বাঁশের ব্যারিকেড বসানো হয়।
মিছিল শুরুর আগে থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের গাড়ি একাধিকবার আটকানো হয়েছে, এমনকি পুলিশের চোখ এড়িয়ে ধর্মতলায় পৌঁছতে হয়েছে। হাইকোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিলেও পথে পথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।