আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১০ মাসের মাথায় ফের চাঞ্চল্য কলকাতায়।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 June 2025 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১০ মাসের মাথায় ফের চাঞ্চল্য কলকাতায়— এ বার দক্ষিণ কলকাতার কসবার এক ল কলেজে (Kasba Law College) ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে মুখ খুললেন আরজি করের নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা।
সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের এই ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে নারী নিরাপত্তা নিয়ে। বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনার ব্যাপারে আরজি করের নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, "সরকার কিছু করবে না। মানুষকেই নিজের ভালটা বুঝে নিতে হবে। এই সব শাসকঘনিষ্ঠ নেতাদের ক্ষমতা আর টাকার অপব্যবহার বেড়ে গেছে বলেই এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। কিছু হলেই ওরা বলে দেবে উত্তরপ্রদেশে ঘটছে, বিহারে হচ্ছে, মণিপুরে ঘটছে। সব ক্ষেত্রেই সরকারের গাফিলতি। "
অন্যদিকে, নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য, তাঁর মেয়ের এখনও বিচার মেলেনি। তিনি বলেন, "যাঁরা মূল দোষী তাঁদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাও তো কসবার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমাদের মেয়ের ক্ষেত্রেও কলেজ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করলে আসল দোষীদের ধরতে পারত। কিন্তু পুলিশ, প্রশাসন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেউই সেই চেষ্টা করেনি। বরং অপরাধীদের লুকিয়ে রাখতে চাইছে। আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেন প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ে।"
বস্তুত, কলেজের মধ্যেই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র (৩১), ওই ল’ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে আলিপুর আদালতে আইন প্র্যাকটিস করেন। বাকি দুই অভিযুক্ত জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়— বর্তমানে কলেজেরই ছাত্র। ঘটনায় ধৃতদের আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিলেন আলিপুর আদালতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারক।
বস্তুত, কসবার আইন কলেজে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। এই ব্যাপারে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কসবার ধর্ষণ মামলায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।